
বলিউড থেকে টলিউড— বহু জনপ্রিয় গানে নিজের কণ্ঠের জাদুতে অনুরাগীদের মুগ্ধ করেছেন জনপ্রিয় গায়ক কুণাল গাঞ্জাওয়ালা। তবে সুরের পাশাপাশি তাঁর অদ্ভুত পদবি ‘গাঞ্জাওয়ালা’ নিয়ে শ্রোতামহলে কৌতূহল ও নানা আলোচনার শেষ নেই। অনেকেই নিছক মজার ছলে কিংবা কটাক্ষ করে এই পদবি নিয়ে কৌতুক করেন। তবে এই পদবির পেছনে যে লুকিয়ে রয়েছে বহু পুরনো এক পারিবারিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা রহস্যই প্রকাশ্যে আনলেন গায়ক।
কুণাল জানান, ব্রিটিশ শাসনকালে তাঁর পূর্বপুরুষেরা চিকিৎসার প্রয়োজনে নিয়মিত গাঁজা চাষ করতেন। তবে সেই চাষ কোনও বেআইনি বিষয় ছিল না; বরং সরকারি নিয়মনীতি মেনেই প্রাতিষ্ঠানিক কাজের উদ্দেশ্যে তা উৎপাদন করা হত। গায়কের দাবি অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের বিখ্যাত ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের বহু আগে থেকেই তাঁর পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। উৎপাদিত সামগ্রী সরাসরি সরবরাহ করা হত তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছে। এই বিশেষ অবদানের জন্য তাঁর পরিবার সরকারি কর-ছাড় পেত এবং ব্রিটিশ সরকার তাঁর পূর্বপুরুষদের ‘রাও সাহেব’ উপাধিতেও ভূষিত করেছিল।
শুধু তা-ই নয়, কুণাল আরও জানান যে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেই সময়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ প্রস্তুতকারক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরিতে তাঁদের উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহৃত হত। পরবর্তীতে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় থেকেই এই পারিবারিক ব্যবসার ইতি ঘটে।
নিজের পারিবারিক পরিচয়ের উল্লেখ করতে গিয়ে গায়ক জানান, তিনি মূলত ‘বালোচি হিন্দু’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে পদবির ইতিহাস এত সমৃদ্ধ হলেও কুণালকে প্রায়শই নানা রসিকতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেকেই হাসাহাসি করে তাঁর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “কী গাঞ্জাওয়ালা, মাল আছে নাকি?” তবে এসব প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না হয়ে হেসেই উড়িয়ে দেন গায়ক। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পদবির ইতিহাস যা-ই হোক না কেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করেন না।