
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল (IPL) মানেই শুধু চার-ছক্কার ফুলঝুরি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিপুল অর্থ, গ্ল্যামার ও বিনোদনের অবাধ মেলবন্ধন। আর বিশ্বক্রিকেটের এই সবচেয়ে জনপ্রিয় কোটিপতি লিগের অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন ললিত মোদী। এবার এই বিতর্কিত ও বর্ণময় সাবেক ক্রিকেট প্রশাসকের বিতর্কিত জীবনকাহিনিই উঠে আসতে চলেছে রুপোলি পর্দায়। ললিত মোদীর জীবন নিয়ে এক বিশাল বাজেটের বায়োপিক তৈরির পরিকল্পনা এখন তুঙ্গে। ছবিটি প্রযোজনা করবে বি-টাউনের প্রথম সারির প্রযোজনা সংস্থা ‘নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্ট’-এর কর্ণধার সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা।
বর্তমানে বায়োপিকটির চিত্রনাট্য ও প্রি-প্রোডাকশনের কাজ জোরকদমে চলছে। ফলে ছবির নির্দেশক, মুক্তি পাওয়ার দিনক্ষণ কিংবা সম্পূর্ণ কাস্টিং নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন, ছবিতে ললিত মোদীর জুতোয় পা গলাতে পারেন রণবীর সিং। বছর কয়েক আগেই রণবীর নিজে ললিত মোদীর বায়োপিকে অভিনয় করার সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকী, এই চলচ্চিত্রের আলোচনা করতেই লন্ডনে গিয়ে ললিত মোদীর সঙ্গে তিনি দেখাও করেছিলেন বলে স্বয়ং মোদী নিশ্চিত করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রণবীরকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও জল্পনা বহাল।
সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এই ছবির মূল আকর্ষণ হতে চলেছে এর বিশাল ক্যানভাস। নির্মাতাদের পরিকল্পনা কেবল আইপিএলের জন্ম কিংবা স্রেফ বিতর্কিত ক্রিকেট প্রশাসন পর্বেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ললিত মোদীর ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন, ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা এবং আইপিএল ধারণার নেপথ্যে থাকা একের পর এক রোমাঞ্চকর ঘটনা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হবে। প্রযোজনা সূত্রের খবর, শুধুই কেলেঙ্কারি বা বিতর্কের সুড়সুড়ি না দিয়ে ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনগাথা তুলে ধরাই নির্মাতাদের মূল লক্ষ্য।
বিখ্যাত লেখক ও প্রযোজক স্নেহা রাজানিও যুক্ত রয়েছেন এই মেগা প্রজেক্টের সঙ্গে। ললিত মোদী ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তাঁর বায়োপিকের প্রাথমিক কাজ স্নেহা রাজানির হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। আপাতত সেই চিত্রনাট্যকে আরও নিখুঁত ও ঘষেমেজে বড় পর্দার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
২০০৮ সালে আইপিএলের সূচনা লগ্নে লিগ চেয়ারম্যান হিসেবে ললিত মোদীই ছিলেন প্রধান কাণ্ডারি। কিন্তু সাফল্যের শীর্ষ স্পর্শ করার পরপরই নানা আর্থিক অনিয়ম ও বিতর্ক তাড়া করে তাঁকে। ২০১০ সালে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI) তাঁকে নির্বাসিত করে। ফলে একাধারে চরম সাফল্য, অভূতপূর্ব রূপান্তর এবং নাটকীয় বিতর্কের মিশেলে গঠিত ললিত মোদীর জীবনকাহিনি প্রেক্ষাগৃহে যে এক টানটান রোমাঞ্চ উপহার দেবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন অফিসিয়াল স্টার কাস্ট এবং শুভমুক্তির বিজ্ঞপ্তির জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সিনেপ্রেমীরা।