
সঞ্জয় লীলা বনশালির আগামী ছবি ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর শুটিং সেটে এক কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। ঘটনাটি এবার এক বড়সড় বিতর্কের রূপ নিয়েছে। মৃত শ্রমিকের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA)।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে, এআইসিডব্লিউএ-এর পক্ষ থেকে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানশালি, সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা এবং এই গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শুটিং সেটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে।
৪২ বছর বয়সী ছুতার (কার্পেন্টার) চন্দ্রধারী সিং যাদবের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক পরস্পরবিরোধী বয়ান সামনে এসেছে। সূত্র অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এআইসিডব্লিউএ। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “দুর্ঘটনার সঠিক সময়, পরিস্থিতি এবং ওই কর্মীর তৎকালীন অবস্থা সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ও যাচাইকৃত তথ্য সামনে আনা হয়নি।”
এই ঘটনার পর ফিল্ম সেটে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা আদৌ ছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের কাছে এক ‘নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের’ তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “যদি সেটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হত, তবে হয়তো এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত।”
দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরুদ্ধে জবাবদিহি চাওয়ার পাশাপাশি, মৃত চন্দ্রধারী সিং যাদবের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি তুলেছে শ্রমিক সংগঠনটি। উল্লেখ্য, যাদব তাঁর স্ত্রী ও দুটি নাবালিকা কন্যাকে রেখে গিয়েছেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়া এই পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং মৃত কর্মীর স্ত্রীর স্থায়ী কর্মসংস্থান বা নিয়মিত আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার জন্যও প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে এআইসিডব্লিউএ।
তদন্ত শেষ না হওয়া এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ‘নিরাপত্তা অডিট’ (Safety Audit) করে গ্রিন সিগন্যাল না দেওয়া পর্যন্ত ওই নির্দিষ্ট লোকেশনে সমস্ত রকম শুটিং বন্ধ রাখার দাবিও জানিয়েছে তারা। গত ১৭ জুন মুম্বইয়ের ফিল্ম সিটির কাছে ‘রয়্যাল পাম্প স্টুডিও’-তে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবির সেট তৈরির কাজ চলার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (Electric Shock) হয়ে যাদবের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন এআইসিডব্লিউএ-এর সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তা। তাঁর অভিযোগ, সেটের একটি অংশ বা ছাদ ভেঙে পড়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনার এই ভিন্ন ভিন্ন বয়ান ও তথ্যের অসঙ্গতিই মূলত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। মহারাষ্ট্র সরকারের হস্তক্ষেপে এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং চলচ্চিত্র শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কী স্থায়ী সমাধান আসে, এখন সেটাই দেখার।