
‘এক পল কা জিনা… খালি হাত আয়ে থে..খালি হাত জায়েঙ্গে…’, হৃত্বিকের নাচ, লাকি আলির কণ্ঠ। এক সময় বলিউডে হইচই ফেলেছিলেন এই গান। তবে শুধু এই গান নয়, ‘ও সনম তেরি চাহাত কি কসম’, নয়ের দশকে প্রেমের অ্যান্থম হয়ে উঠেছিল। সেই লাকি আলি, ছকভাঙা কিছু গান গেয়েও, বলিউড থেকে যেন ধীরে ধীরে অন্তরালে চলে গেলেন। মাঝে মধ্যেই অবশ্য সোশাল মিডিয়া দু-এককলি শোনান। তবে এবার কনসার্টের মঞ্চে দাঁড়িয়ে লাকি আলি মৃত্যুর কথা বলে ফেললেন। যা শুনে অনুরাগীদের চোখে জল আসতে বাধ্য। বিষয়টা একটু খোলসা করে বলা যাক।
লাইভ কনসার্টে গান গাইতে গাইতে হঠাৎই মৃত্যুর প্রসঙ্গ। আবেগঘন গলায় জীবনের চরম সত্যের কথা তুলে ধরে শ্রোতা-দর্শকদের চোখ জলে ভাসালেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লাকি আলি (Lucky Ali)। ৬৭ বছর বয়সি এই জনপ্রিয় ইন্ডি-পপ তারকা জানান, জীবনের যেকোনও পরিস্থিতিতে মৃত্যুর জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি সফরে বেরোনোর সময় সবসময় নিজের সঙ্গে কাফনও রাখেন তিনি!
মঞ্চে পারফর্ম করার সময় ভক্তদের অকৃত্রিম ভালোবাসার জবাবে লাকি আলি বলেন, “আমি জানি, আমি আপনাদের সবাইকে ভীষণ ভালোবাসি। তবে একদিন আমাদের সবাইকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি আপনাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করছি না, কিন্তু আমি নিজে সত্যি প্রস্তুত। তাই যখনই কোথাও ভ্রমণ করি, নিজের সঙ্গে কাফনের কাপড় নিয়ে ঘুরি। যেখানেই আমার মৃত্যু হোক না কেন, সেখান থেকেই আমায় স্বাচ্ছন্দ্যে বিদায় নিতে দিও।”
শিল্পীর এই কথা শুনে উপস্থিত বহু অনুরাগী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে তাঁর গান শুনে আসা এক ভক্ত জানান, এতদিন কেটে গেলেও লাকি আলির প্রতি ভালোবাসা একটুও কমেনি।
কনসার্টের এই ভিডিওটি লাকি আলি নিজেই ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করার পর কমেন্ট বক্সে ভেসে আসে অনুরাগীদের অগাধ ভালোবাসা ও উদ্বেগের বার্তা। নয়ের দশকের স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে এক অনুরাগী লেখেন, “আমি এই বাস্তব মানতে রাজি নই। আমার কাছে এখনও সেই ৯০-এর দশক চলছে, দূরদর্শনে আপনার গান দেখছি আর আপনি চিরতরুণ হয়ে আছেন।” অন্য এক ভক্ত তাঁর বিশ্বাসের প্রশংসা করে লেখেন, “সঙ্গে কাফন নিয়ে ঘোরা আপনার সুদৃঢ় ইমানের পরিচয় দেয়। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন দান করুন, আর পরকাল আরও সুন্দর করুন… আমিন।”
উল্লেখ্য, নয়ের দশকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগীতের (Indie Music) মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করা লাকি আলি পরবর্তীতে ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’, ‘যুবা’, ‘বাচনা অ্যায় হাসিনো’, ‘আনজানা আনজানি’ এবং ‘তামাশা’-র মতো একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন।
মূলধারার সিনেমা জগৎ থেকে কেন দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন, সে বিষয়ে আগেও মুখ খুলেছেন এই গায়ক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেন অভিনয় ও প্লেব্যাক ছেড়ে নিজের শর্তে স্বাধীন সংগীতে মন দিয়েছিলেন।
লাকি আলির কথায়, “এক সময় সিনেমা করতাম, গান গাইতাম। কিন্তু একঘেয়েমি চলে এসেছিল। নিজের মতো করে গাওয়ার স্বাধীনতা থেকেই তৈরি হয়েছিল ‘ও সনম’। ২০১৫ সাল নাগাদ আমি ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরত্ব তৈরি করি। কিছু মানুষ আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছিলেন ঠিকই, তবে শুধু বিষাক্ত পরিবেশের জন্য নয়, মূলধারার কাজের একঘেয়েমির কারণেই আমি সরে আসি। বাবার মৃত্যুর পর মনে হয়েছিল, ওখানে আমার আর করার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। এমনকী আমার কোনও বন্ধুও ছিল না।”