Madhuri Dixit: পুরোটাই যেন কাঠি, একেবারে মাংস নেই! মাধুরীর শরীর নিয়ে কাটাছেঁড়া, কী ঘটেছিল?

নেটফ্লিক্সের এই ছবি কমেডি ঘরানার হলেও, এর হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ধারালো সামাজিক বার্তা দর্শকদের গভীরভাবে ছুঁয়ে গিয়েছে। সমাজে নারীদের যেভাবে প্রতিনিয়ত নীতিপুলিশির মুখোমুখি হতে হয় এবং উঠতে-বসতে ‘স্লাট-শেমিং’ বা চরিত্র নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের শিকার হতে হয়, ছবিতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

Madhuri Dixit: পুরোটাই যেন কাঠি, একেবারে মাংস নেই! মাধুরীর শরীর নিয়ে কাটাছেঁড়া, কী ঘটেছিল?

|

Jun 15, 2026 | 2:46 PM

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন ছবি ‘মা বহেন’ (Maa Behen)। আর এই ছবির হাত ধরে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা এবং ভালোবাসার জোয়ারে ভাসছেন বলিউড ডিভা মাধুরী দীক্ষিত। নেটফ্লিক্সের এই ছবি কমেডি ঘরানার হলেও, এর হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ধারালো সামাজিক বার্তা দর্শকদের গভীরভাবে ছুঁয়ে গিয়েছে। সমাজে নারীদের যেভাবে প্রতিনিয়ত নীতিপুলিশির মুখোমুখি হতে হয় এবং উঠতে-বসতে ‘স্লাট-শেমিং’ বা চরিত্র নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের শিকার হতে হয়, ছবিতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বাস্তব সমাজের মতোই বিনোদন জগতেও নায়িকাদের পছন্দ, পোশাক ও বাহ্যিক রূপ নিয়ে প্রতিনিয়ত চলে কাটাছেঁড়া ও কড়া নজরদারি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাধুরী দীক্ষিত খোলসা করেছেন যে, আশির দশকে যখন তিনি নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন, তখন তাঁকেও এমন কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

মাধুরী দীক্ষিত বলেন, “আপনি যখন একজন পাবলিক ফিগার এবং নিজেকে ক্যামেরার সামনে মেলে ধরছেন, তখন কিছু মানুষ তো আপনার দিকে আঙুল তুলবেই যে. ‘এ তো এই রকম’, বা ‘ও তো ওই রকম’। আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন অনেকেই মনে করতেন আমি বড্ড রোগা। অনেকে তো সামনাসামনিই বলতেন— ‘একে কিছু খাইয়ে দাও অন্তত। এর শরীরে তো মাংস নেই। কাঠির মতো।’এই ধরনের বিষয়ে মানুষ খুব দ্রুত অন্যকে বিচার করতে বসে যায়।” এর মাধ্যমে অভিনেত্রী স্পষ্ট করেন যে, কীভাবে নারী শিল্পীদের কেরিয়ারের শুরু থেকেই বডি শেমিং বা শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ সহ্য করতে হয়।

এটি যে আমাদের দেশের একটি মজ্জাগত সমস্যা, তা মনে করিয়ে দিয়ে ‘কলঙ্ক’ এবং ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’ খ্যাত এই অভিনেত্রী আরও বলেন, “ওজন বাড়লে লোকে আপনাকে নিয়ে কথা বলবে, আবার ওজন কমিয়ে ফেললেও আপনার খুঁত ধরা হবে। এমনিতে আমাদের ভারতে একটা রেওয়াজই আছে— কারও সঙ্গে দেখা হলেই প্রথম বাক্যটা হয়, ‘আরে, এ তো কত মোটা হয়ে গিয়েছে!’ অথবা ‘এ তো বড্ড শুকিয়ে গেছে!’ দেখা হলেই প্রথম এই মন্তব্যটাই করা হয়। এখানে মানুষের কথার মাঝে কোনও ফিল্টার বা রাখঢাক থাকে না।”

তবে মাধুরীর মতে, তৎকালীন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ট্রোলিং সংস্কৃতির অনুপস্থিতির কারণে এই ধরণের মন্তব্য এড়িয়ে চলা অনেকটাই সহজ ছিল। তিনি জানান, “আমি বিশ্বাস করি যে, এই বিষয়গুলোকে আমাদের নিজেদের ওপর প্রভাব ফেলতে দেওয়া উচিত নয় এবং এগুলোতে খুব বেশি কান দেওয়া ঠিক নয়। আমাদের সময়েও আজকের মতোই মানুষের মনে সমালোচনা করার মানসিকতা ছিল, কিন্তু তখন সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় সেইসব কটু কথা সরাসরি আমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছত না।”

Follow Us