
ব্য়ক্তিগত জীবনে আচমকাই ঝড় উঠেছিল সোশাল মিডিয়া সেনসেশন গায়িকা, অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দীর। সেই ঝড়ের দাপট সহ্য করতে না পেরে নিজেকে শেষ করতেও চেয়েছিলেন দেবলীনা। খেয়েছিলেন ৭৮টা ঘুমের ওষুধ! ভর্তি ছিলেন হাসপাতালেও। তবে কপালের জোরে ফের জীবন ফিরে পেলেও, মানসিক দিক থেকে মারাত্মক ভেঙে পড়েছিলেন। সেকথা বার বার জানিয়েও ছিলেন দেবলীনার পরিবারের লোকজন এবং খোদ দেবলীনাও। তবে এখন তিনি আগের থেকে অনেকটা সুস্থ। আর সুস্থ হয়েই নতুন উপলদ্ধি ও নতুন সিদ্ধান্তের কথা অনুরাগীদের জানিয়ে দিলেন শিল্পী।
কী বললেন দেবলীনা?
সত্যজিৎ চক্রবর্তীর ইনস্টাগ্রাম থেকে শেয়ার করা ভিডিয়োতে দেবলীনা জানান, ”সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে, নিজের জীবনে একটা ভুল পদক্ষেপ করতে চলেছিলাম। নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খীদের তৎপরতায়, আমি এখন সুস্থ। এই দুঃসময় যাঁরা আমার পাশে ছিল বা আছেন, তাঁদের প্রত্যেককে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে একটা উপলদ্ধি, আমার সঙ্গে মানুষের একমাত্রই সংযোগ আমার গান। তাই আমি চেনা ছন্দে, মুক্ত মঞ্চে এবং সঙ্গীত জীবনে আবার আপনাদের ভালবাসা নিতে, আশীর্বাদ নিতে ফিরছি। ” সব শেষে অনুষ্ঠানের জন্য তাঁকে যোগাযোগ করার কথাও বলেন দেবলীনা।
কী ঘটেছিল দেবলীনার সঙ্গে?
বেশ কিছু বছর ধরে যার সুরেলা কণ্ঠ আর হাসিমুখের ভ্লগ ছিল নেটপাড়ার বিনোদনের রসদ, সেই দেবলীনা নন্দী কয়েকদিন আগেও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন। আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর প্রাণ ফিরে পেলেও শান্তি ফেরেনি তাঁর মনে। সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে এসে নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন গায়িকা। তাঁর হাহাকার মেশানো কণ্ঠস্বর আর ‘দম বন্ধ হয়ে আসার’ আকুতি এখন নেটদুনিয়ার নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
গত শনিবার সকালে ফের লাইভে এসে দেবলীনা বলেন, “আমি যে পথটি বেছে নিয়েছিলাম, আজ বুঝতে পারছি সেটি সঠিক ছিল না। ভুল আমি করেছি, কিন্তু সেই ভুলের নেপথ্যে ছিল শুধুই ভালোবাসা। একদিকে আমার মা, আর অন্যদিকে ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামী—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। আজ আমি একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছি। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে নোংরা ট্রোল করে আমার মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম সেই দিনটিই আমার জীবনের শেষ দিন হবে, কিন্তু ভগবান আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। দয়া করে আমাকে একটু সুস্থভাবে বাঁচতে দিন। নিজের ভালোবাসার মানুষ আর সংসার হারিয়ে ফেলা আমার কাছে মৃত্যুসম যন্ত্রণার। আপনাদের বিষাক্ত কথায় দয়া করে আমাকে নতুন করে মেরে ফেলবেন না।
এই লাইভে দেবলীনা জানান, ”এটিই আমার প্রথম এবং শেষ বক্তব্য। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শুয়ে আমি কীভাবে ভিডিও করছি? তাঁদের উদ্দেশ্যে জানাই, একটু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন ঘটনার দুদিন পর থেকে যখন পরিচিতরা দেখা করতে এসেছেন, তখনই ভিডিওগুলো করা হয়েছে। অনেকে চাইছেন আমি মরে যাই, এমনকি মেসেজ বা কমেন্ট করে সেটি লিখছেনও। আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। যারা এমন বলছেন, চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কিন্তু বিশ্বাস করুন—আমি আর পারছি না। তাই পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি হিসেবে এই শেষ ভিডিওটি আপলোড করছি। এরপর যা বলার বা দেখানোর, তা প্রমাণসহ সঠিক জায়গায় (আইনি বা উপযুক্ত মাধ্যমে) দেখাব। তবে এখনও গোটা ঘটনায়, মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন দেবলীনার স্বামী প্রবাহ নন্দী।