
১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের কালজয়ী সৃষ্টি ‘রাম তেরি গঙ্গা ময়লি’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতেই নীল চোখের এক মায়াবী রূপসীর জাদুতে বুঁদ হয়েছিল গোটা দেশ। নাম তাঁর মন্দাকিনী। মাত্র একটি ছবিতেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে যাওয়া এই অভিনেত্রীর জীবন হঠাৎই এক কালবৈশাখীর মুখোমুখি হয়, যখন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে। বলিপাড়ার উঠতি তারকার সঙ্গে মাফিয়া ডনের এই রহস্যময় যোগাযোগের খবরে সে সময় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন থেকে পুরো বিনোদন জগৎ।
এই চর্চিত বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল শারজায় এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন। স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে দাউদ ইব্রাহিমের ঠিক পাশে বসা মন্দাকিনীর ছবি সংবাদপত্রের পাতায় আসতেই শুরু হয় তোলপাড়। চারদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে— মাফিয়া প্রধানের কলকাঠি নাড়ানোর কারণেই নাকি একের পর এক বড় ছবিতে সুযোগ পাচ্ছেন মন্দাকিনী। এমনকী, দুবাইয়ের রাজকীয় বাংলোয় অভিনেত্রীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলেও দাবি ওঠে।
নব্বইয়ের দশকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বলিউডের সমীকরণ ছিল এক খোলা রহস্য। শোনা যেত, দাউদ ইব্রাহিম নাকি মন্দাকিনীকে মূল চরিত্রে নেওয়ার জন্য ছবির প্রযোজক ও পরিচালকদের নিয়মিত হুমকি পাঠাতেন। এতে অভিনেত্রীর উদীয়মান কেরিয়ার খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়ায়। তবে বছর তিনেক আগে এক সাক্ষাৎকারে এই সমস্ত রটনাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মন্দাকিনী। তাঁর দাবি ছিল, “আমি আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই শারজায় ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানেই পরিচয়। আমাদের মধ্যে কোনও প্রেম বা বিয়ের সম্পর্ক ছিল না।”
ঘন ঘন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ এবং মাফিয়া জগতের সঙ্গে অনবরত নাম জড়ানোর তীব্র মানসিক চাপ সইতে না পেরে গভীর অবসাদে তলিয়ে যান অভিনেত্রী। ফলে নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়েই বলিউডকে চিরতরে বিদায় জানান তিনি। পরবর্তীতে প্রাক্তন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ডক্টর কাগিউর টি রিনপোচে ঠাকুরকে বিয়ে করে এক শান্ত-নিভৃত জীবনে পা রাখেন মন্দাকিনী। বর্তমানে মুম্বইতে বসবাস করলেও মায়ানগরীর আলোঝলমলে পরিবেশ আর দাউদ ইব্রাহিমকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই বিতর্কিত অধ্যায় থেকে আজ তিনি বহু যোজন দূরে।
তদন্তকারীদের একাংশের দাবি ছিল, দাউদ ও মন্দাকিনীর নাকি একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে এই ধরনের দাবিকে বরাবরই ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া গুজব’ বলে নস্যাৎ করে এসেছেন প্রাক্তন এই বলিউড সুন্দরী।