
২০২৬ সালের দীপাবলিতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে নীতিশ তিওয়ারির বহুল চর্চিত মেগা বাজেট ছবি ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’-এর। তবে মুক্তির বেশ কয়েক মাস আগেই নতুন করে বিতর্ক উঠল এই ছবিটিকে ঘিরে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে, এমন কোনও দৃশ্য বা সংলাপ ছবিতে রয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই একটি ‘বিশেষ স্ক্রিনিং’-এর দাবি তুলেছে ‘শ্রী রামলীলা মহাসংঘ’। মহাসংঘের নির্দেশ অমান্য করা হলে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে এই সংগঠন।
শ্রী রামলীলা মহাসংঘের সভাপতি অর্জুন কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক নীতিশ তিওয়ারি এবং প্রযোজনা সংস্থাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে মুক্তির আগেই ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’-এর একটি প্রিভিউ বা স্পেশ্যাল স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
অর্জুন কুমার জানান, দিল্লির রামলীলা কমিটি, শ্রী রামলীলা মহাসংঘ এবং বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিদের জন্য এই স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সাধারণ দর্শকরা দেখার আগেই কোনও বিতর্কিত বা আপত্তিজনক বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় অর্জুন কুমার ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আদিপুরুষ’ ছবির উদাহরণ টেনে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সনাতন ধর্মের অনুগামী এবং ঐতিহ্যবাহী রামলীলার সঙ্গে জড়িত সদস্যরা কীভাবে আদিপুরুষ-এর বেশ কিছু দৃশ্য ও সংলাপের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। সোনার লঙ্কাকে কালো রঙের তুলে ধরা কিংবা রাবণ ও তাঁর সেনাবাহিনীকে পৌরাণিক বর্ণনার বাইরে গিয়ে মুঘল আমলের চরিত্রদের মতো উপস্থাপন করার ফলে ছবিটি দর্শকমহলে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
অর্জুন কুমার বলেন, “সম্প্রতি প্রভাস অভিনীত একটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল, যার প্রচারের জন্য আমরা লালকেল্লায় অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছিলাম। কিন্তু ছবিতে অত্যন্ত আপত্তিকর কয়েকটি দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল। সোনার লঙ্কাকে কালো দেখানো হয়েছিল, চামড়ার পোশাক ও সামগ্রীর অসঙ্গত ব্যবহার ছিল এবং পৌরাণিক চরিত্রদের মুঘল ধাঁচে সাজানো হয়েছিল। আমাদের মতে, আদিপুরুষ অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দিয়েছিল, যার ফলে এত বড় বাজেটের ছবিটি বক্স অফিসে ফ্লপ করে।”
রণবীর কাপুরের অভিনীত আগামী ছবি নিয়ে তিনি বলেন, “রণবীর কাপুরের মতো বড় মাপের অভিনেতার এই মেগা বাজেট ছবিকে স্বাগত জানাতে এবং প্রচার করতে আমরা প্রস্তুত। রামলীলা কমিটি হাজার হাজার মানুষের জন্য বিনামূল্যে এই ছবি দেখানোর ব্যবস্থাও করতে চায়। কিন্তু আমাদের একটাই অনুরোধ— আদিপুরুষ-এর মতো ভুল যেন এই ছবিতে পুনরাবৃত্তি না হয়।”
রণবীর কাপুরের রাম অবতার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহাসংঘের সভাপতি। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবির ট্রেলারে রণবীর কাপুরকে প্রভু রামের চরিত্রে কিছুটা দুর্বল মনে হচ্ছে। শ্রীরামের যে তেজ এবং গাম্ভীর্য থাকা দরকার, তার অভাব চোখে পড়ছে। অন্তত আমাদের চোখে তাঁকে ঠিক রামচন্দ্রের রূপের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই মনে হচ্ছে না।”
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নির্মাতারা যদি দিল্লির হিন্দু সংগঠন এবং রামলীলা কমিটির জন্য ছবিটির অগ্রিম স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন না করেন, তবে মহাসংঘ আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে। উল্লেখ্য, ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’ ২০২৬-এর দীপাবলিতে এবং এর দ্বিতীয় পর্বটি ২০২৭-এর দীপাবলিতে প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা রয়েছে।