‘আমি চাই, ছেলেরা আমাকে ইভটিজ় করুক’, খুব আক্ষেপ ঋয়ের

Ri Sen: TV9 বাংলা ডিজিটালের সঙ্গে এক পিচগলা দুপুরে আড্ডা দিতে-দিতে খুব দুঃখ করেছেন ঋ। বলেছেন, "এখন কেউ টিজ় করে না রাস্তায় বেরলে। কেউ গা ঘেঁষে গেলে গান গায় না। এগুলো আমি খুব মিস করি।"

আমি চাই, ছেলেরা আমাকে ইভটিজ় করুক, খুব আক্ষেপ ঋয়ের
ঋতুপর্ণা সেন (Source: TV9 Bangla Digital)

|

Jun 27, 2024 | 3:14 PM

বরাবরই ছকভাঙা ঋতুপর্ণা (অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন। অনেকে তাঁকে ‘ঋ’ বলেও চেনেন)। ছোটবেলা থেকেই। যে বিষয়টি তাঁর বয়সি কিশোরীরা ভয় পেত, তাই তিনি উপভোগ করতেন। জানলে অবাক হবেন, ইভটিজ়িংয়ের মতো ভয়ানক অপরাধমূলক বিষয়টি অপরাধ হিসেবেই তিনি দেখেননি। গোটাটা তাঁর কাছে ছিল অসম্ভব রোম্যান্টিক। তিনি চাইতেন তাঁকে দেখে ছেলেরা গান করুক, টিটকিরি দিক। এখন তাঁকে কেউ কেন রাস্তাঘাটে ইভটিজ় করে না, তা নিয়ে আক্ষেপ ঝরে পড়েছে ‘গাণ্ডু দা লুজ়ার’, ‘কসমিক সেক্স’-এর অভিনেত্রীর কণ্ঠে। TV9 বাংলা ডিজিটালের সঙ্গে এক পিচগলা দুপুরে আড্ডা দিতে-দিতে খুব দুঃখ করেছেন ঋ। বলেছেন, “এখন কেউ আমাকে টিজ় করে না রাস্তায় বেরলে। কেউ গা ঘেঁষে গেলে গান গায় না। এগুলো আমি খুব মিস করি।”

কিশোরীবেলায় ইভ টিজ়িংয়ের শিকার হয়েছেন অনেকেই। ঋ-ও। রাস্তায় বেরলে পাড়ার রকে বসা ছেলের দল ব্যাঁকা সুরে গেয়ে উঠেছে, ‘ও হনসিনী, মেরি হনসিনী…’। কিংবা, ‘রূপ তেরা মস্তানা…।’ চোখ মেরেছে। খারাপ কথাও বলেছে। এই নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের হয়েছে ভূরি-ভূরি। অধিকাংশ মেয়েই মাথা নামিয়ে, বুকের কাছে পড়ার ব্যাগটা চেপে চলার গতি বাড়িয়েছে। পায়ের গতি যত বেড়েছে, ততই চড়েছে দামাল ছেলেগুলোর কণ্ঠের স্বর। কাঁপতে-কাঁপতে হেঁটে যাওয়া মেয়েটির অদৃশ্য হওয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই ‘পিছনে লাগা’ চলেছে। অভিভাবকেরা সতর্কতা বাড়িয়েছেন। বাড়ি ফেরার পথও বদলেছে সন্ত্রস্ত কিশোরীর। কিন্তু ঋ-এর কাছে এই ঘটনাগুলো বড্ড বেমানান লাগত। তিনি কিন্তু সবটা মজার ছলেই গ্রহণ করতেন। মনের মধ্যে মুগ্ধতাও কাজ করত তাঁর। বিষয়টি তিনি উপভোগ করতেন।

তাই আজও সেই ইভটিজ়ারদের খুঁজে বেড়ান ঋ। তাঁদের জন্য মন খারাপও হয় ঋয়ের। অভিনেত্রী বলেই বসলেন, “এখন আর ইভ টিজ়িং হয় না। ছোটবেলায় প্রচুর ইভ টিজ়ড হয়েছি। মজা ছিল। একটা কাব্যিক ব্যাপারও ছিল। এখন আমি চাই, লোকজন একটু টিজ় করুক আমাকে। ছেলেরা একটু ফলোটলো করুক। কারও কাছে তেমন সময় নেই।” আসলে ঋয়ের কাছে এই ইভটিজ়িংয়ের সংজ্ঞা আলাদা। এ হল সাদা-কালো ছায়াছবি ‘তিন ভুবনের পাড়ে’র পাড়ার রক। যেখানে পাড়ার ম্টু (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়), জয়ন্তরা (রবি ঘোষ) সুন্দরীদের দেখে গেয়েছিল, ‘জীবনে কী পাব না, ভুলেছি সে ভাবনা’।

তাঁর সময়কার সেই ইভটিজ়ারদের হারিয়ে যাওয়ার মূলে মুঠোফোনকেই দায়ী করেছেন ঋ। ছেলেমেয়েদের মধ্যে ৯০-এর সারল্যের অবলুপ্তি দেখে তিনি বিরক্ত। বলেছেন, “সকলে এখন ফোনে-টোনে ব্যস্ত। একটা ছেলের কাছে পাঁচটা মেয়ে অ্যাভেলেবল, একটা মেয়ের কাছে পাঁচটা ছেলে অ্যাভেলেবল। কে ইভ টিজ় করছে, সেটা দেখার কোনও দরকারই নেই। ছোটবেলায় যখন ছেলেটা স্টক করত কিংবা ফলো করত, তার মধ্যে মজা ছিল খুব।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us