
রিয়্যালিটি শো-এর জনপ্রিয় তারকা প্রিন্স নারুলা তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন ও অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন। তীব্র মানসিক উদ্বেগ (Anxiety) কীভাবে তাঁর শরীর, কেরিয়ার এবং স্ত্রী যুবিকা চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল, তা অকপটে ভাগ করে নিলেন অভিনেতা। নেহা ধুপিয়ার শো ‘ডাবল ডেট’-এ এসে প্রিন্স জানান, এই কঠিন পরিস্থিতি একসময় তাঁদের বৈবাহিক জীবনকে বিচ্ছেদের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছিল। তবে কন্যাসন্তানের জন্মের পর বাবা-মা হিসেবে এখন তাঁরা জীবনের এক নতুন ও সুন্দর অধ্যায় শুরু করেছেন।
নিজের শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রিন্স জানান, একটা সময় মানসিক উদ্বেগ তাঁর জীবনকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, “একটা সময় এমন গিয়েছিল যখন আমাকে দিনে ১৮টি করে ওষুধ খেতে হতো। সারাক্ষণ বুক ধড়ফড় করত, রাতের বেলা এক অজানা ভয় তাড়া করে বেড়াত, ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল এবং আরও নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ওটা আমার জীবনের অন্যতম কঠিন একটা পর্যায় ছিল।”
এই মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণার দিনগুলোতে গানের মধ্যে তিনি কীভাবে শান্তি খুঁজে পেয়েছিলেন, সে কথাও জানান এই রিয়্যালিটি কিং। প্রিন্সের কথায়, “গান আমাকে এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে। যখন আমি প্রতি মুহূর্তে লড়াই করছিলাম, তখন গানই আমার মনে শান্তি এনে দিত।”
শত ঝড়ের মধ্যেও স্ত্রী যুবিকা যেভাবে তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তার পুরো কৃতিত্ব যুবিকাকেই দিয়েছেন প্রিন্স। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি যখন সত্যিই খুব জটিল ছিল, তখন ও শক্ত করে আমার হাতটা ধরে রেখেছিল। ওর এই সমর্থন ছাড়া আমি হয়তো মানিয়ে নিতে পারতাম না।”
একই সঙ্গে নিজেদের দাম্পত্য জীবনের সেই টানাপোড়েন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন অভিনেতা। তিনি জানান, সেই সময় দুজনেই মানসিকভাবে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল যে তাঁরা আলাদা হয়ে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। প্রিন্স বলেন, “যুবিকাও ভুল ছিল না, আর আমিও ভুল ছিলাম না। আসলে আমরা কেউই তখন সঠিক মানসিক অবস্থায় ছিলাম না।”