
সম্প্রতি একটি অলঙ্কার বিপণন সংস্থার রাখি বন্ধনের বিজ্ঞাপনে ফ্যাশনেবল ব্লাউজ ও স্কার্ট পরার কারণে নেটিজেনদের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। ওই পোশাকে অভিনেত্রীর নেকলাইন প্রদর্শন ঐতিহ্যবাহী উৎসবের জন্য অনুপযুক্ত— এই অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে নেটদুনিয়া। সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে কৃতি প্রশ্ন তুলেছিলেন, পোশাকের কাট দিয়ে নারীর সংস্কৃতির বিচার করা বন্ধ হবে কবে? এবার কৃতির সেই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বিতর্কের মাঝেই বুধবার বিতর্কিত সেই বিজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।
সংস্কৃতি ও পোশাক সংক্রান্ত কৃতির স্পষ্ট বক্তব্যটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “একজন নারী কী পরিধান করবেন, জীবনের কোন পথ বেছে নেবেন কিংবা কোথায় যাবেন— তা একেবারেই তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার পোশাক বা আচরণের জন্য নারীদের ওপর কটাক্ষ বা ট্রোল করা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।” সেই সঙ্গেই একটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিলোপের বার্তা দেন তিনি।
রাহুলের এই অবস্থানকে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছেন নেটিজেনদের এক বিরাট অংশ। তাঁদের বক্তব্য, রাখির মতো একটি পারিবারিক উৎসবে নারীর পোশাককে লক্ষ্যবস্তু করা সংকীর্ণ পুরুষতান্ত্রিক ভাবনারই বহির্প্রকাশ।
অন্যদিকে, তীব্র বিতর্ক ও আইনি-সামাজিক চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে অলঙ্কার প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ডটি। অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি বিবৃতি জারি করে বিজ্ঞাপনটি সমস্ত মাধ্যম থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে সংস্থাটির তরফে বলা হয়, “ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং লোকোৎসবের প্রতি আমাদের অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ উদযাপনে বিশ্বাসী। এবার সেই ভালোবাসার পরিধি বাড়িয়ে বাড়ির পোষ্যদেরও উদযাপনের অংশ করতে চেয়েছিলাম আমরা। তবে দেশের গণআবেগ ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা এই বিজ্ঞাপনটি সমস্ত ডিজিটাল ও প্রচার মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিচ্ছি।”
কৃতির সাহসী জবাব, রাহুলের রাজনৈতিক সমর্থন এবং সংস্থার নতিস্বীকার— সব মিলিয়ে রাখির এই পোশাক বিতর্ক এখন দেশের অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।