Rajpal Yadav: ‘৫ বার জেলে যেতে রাজি, কিন্তু…’, চেক বাউন্স মামলায় বিস্ফোরক রাজপাল যাদব

Rajpal Yadav Jail Sentence: তবে আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করায় এবার নতুন করে বড়সড় বিপাকে পড়লেন অভিনেতা। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে রাজপালের সাজা বহাল রেখেছে এবং তাঁকে পুনরায় জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

Rajpal Yadav: ৫ বার জেলে যেতে রাজি, কিন্তু..., চেক বাউন্স মামলায় বিস্ফোরক রাজপাল যাদব

|

Jul 11, 2026 | 1:22 PM

বেশ কিছুদিন ধরেই সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও অভিনেতা রাজপাল যাদব। ৯ কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আদালত তাঁকে ঋণ পরিশোধের জন্য সময় দিয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করায় এবার নতুন করে বড়সড় বিপাকে পড়লেন অভিনেতা। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে রাজপালের সাজা বহাল রেখেছে এবং তাঁকে পুনরায় জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের এই রায়ের পর ‘মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর পক্ষে আইনজীবী সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-কে বলেন, “আজ রাজপাল যাদবের দায়ের করা মামলাগুলোর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। দিল্লি হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, রাজপাল যাদবের দায়ের করা ২১টি মামলাই খারিজ করে দেওয়া হয়েছে এবং দায়রা আদালতের (Sessions Court) দেওয়া সাজা বহাল রাখা হয়েছে। আদালত তাঁকে ৩ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে; পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় ১.০৫ কোটি টাকা করে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩ মাসের এই জেলের মেয়াদ সবকটি মামলার ক্ষেত্রে একসঙ্গেই চলবে। এই মামলাগুলোতে রাজপালের স্ত্রী রাধা যাদবও অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। তাঁকে প্রতিটি মামলায় ৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার সময় রাজপালের আইনজীবী তাঁর শর্তসাপেক্ষ মুক্তির জন্য আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়।”

আদালত বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, অভিনেতা আদালতে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বারবার ভঙ্গ করেছেন। এছাড়া রাজপালের একটি বিতর্কিত মন্তব্যও আদালত আমল দিয়েছে, যেখানে তিনি নাকি বলেছিলেন, “টাকা দেওয়ার চেয়ে পাঁচবার জেলে যেতেও রাজি আছি।” তবে হাইকোর্ট রাজপাল যাদবকে এই নির্দেশ মেনে চলার অথবা সুপ্রিম কোর্টে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার জন্য দু’মাসের সময় দিয়েছে।

এই একই মামলায় এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লি হাইকোর্ট রাজপালকে ৩ মাসের সিভিল কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল, কারণ তিনি মূল ঋণের ৫ কোটি টাকা শোধ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এরপর গত ৫ই ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য তাঁর শেষ মুহূর্তের সময়ের আবেদন খারিজ করে দিলে, তিনি দিল্লির তিহাড় জেলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

সেদিন তিহাড় জেলে ঢোকার আগে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে প্রকাশ্য এক বিবৃতিতে হাত জোড় করে রাজপাল স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন এবং বকেয়া টাকা মেটানোর মতো কোনও অর্থই তাঁর কাছে অবশিষ্ট নেই। তাঁর এই আত্মসমর্পণের পর সোনু সুদের মতো বলিউডের প্রথম সারির ব্যক্তিত্বরা জনসমক্ষে রাজপালের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন রাজপালকে দয়া বা দান হিসেবে নয়, বরং একজন শিল্পীর সম্মান রক্ষার্থে অভিনয়ের কাজ দেওয়া হয়। তবে আইনি জটিলতা যে এখনই কাটছে না রাজপালের, তা এই নতুন রায়ে স্পষ্ট।

Follow Us