
২০০৯ সালে ‘অজব প্রেম কী গজব কাহিনি’ ছবির শুটিং চলাকালীনই প্রথম কাছে আসা। এরপর দেখতে দেখতে প্রায় সাত বছর গাঢ় প্রেমে মগ্ন ছিলেন রণবীর কাপুর এবং ক্যাটরিনা কইফ। বলিপাড়ার গুঞ্জন, তৎকালীন প্রেমিকা দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীনই ক্যাটরিনার প্রেমে মশগুল হন ঋষি-পুত্র। যদিও নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চিরকালই কুলুপ এঁটেছিলেন এই তারকা জুটি। তবে শেষরক্ষা হয়নি। গোয়েন্দার মতো পিছু নিয়ে কীভাবে সেই গোপন প্রেমের খবর ফাঁস করেছিলেন মিডিয়া কর্মীরা, সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই বিস্ফোরক স্মৃতি রোমান্থন করলেন এক প্রাক্তন বিনোদন সাংবাদিক।
ওই প্রাক্তন সাংবাদিক জানান, রণবীর-ক্যাটরিনার প্রেমের কথা তখনও কাকপক্ষীতেও টের পায়নি। ঠিক সেই সময় তাঁর কাছে একটি গোপন সূত্র মারফত খবর আসে যে, মাঝরাতে বান্দ্রায় ক্যাটরিনার ফ্ল্যাটে গিয়েছেন রণবীর এবং রাত দেড়টা নাগাদ তিনি সেখান থেকে বেরোবেন। খবর পাওয়া মাত্রই সাড়ে ১২টা নাগাদ ক্যাটরিনার আবাসন চত্বরে গোপনে ওত পেতে বসে থাকেন তাঁরা। সাংবাদিকের কথায়, “রণবীর যখন গভীর রাতে বিল্ডিং থেকে বেরোলেন, তখনই বুঝতে পারেন পাপারাজ্জিরা সেখানে উপস্থিত। দ্রুত মাথায় টুপি গলিয়ে গাড়িতে চেপে বেরিয়ে যান তিনি। তবে সেই রাতেই তাঁদের প্রেমের খবরের কথা প্রথম চাউড় হয়ে যায়।”
এরপর আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা ফাঁস করেন ওই সাংবাদিক। এক পরিচিত ব্যক্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষ করে বান্দ্রায় ক্যাটরিনার ব্যক্তিগত আপ্তসহায়কের একটি ফাঁকা ফ্ল্যাটে গোপনে দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলেন রণবীর-ক্যাটরিনা। সেই খবরও পৌঁছে যায় ছবিশিকারিদের কাছে। ক্যাটরিনা গাড়ি থেকে নামতেই ক্যামেরা চালু করে দেন পাপারাজ্জিরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রণবীর গাড়ির কাচ নামিয়ে এমন ভান করেন, যেন তিনি শুধুই ক্যাটরিনাকে পৌঁছে দিতে এসেছেন। তবে সাংবাদিকরাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলেন না। রণবীর চলে যাওয়ার পরও তাঁরা ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। ঠিক দশ মিনিট পর রণবীরের গাড়ি আবারও সেই একই জায়গায় ফিরে আসতেই ফের ঝলসে ওঠে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ!
আর তাতেই ঘটে চরম বিপত্তি! বারবার পিছু নেওয়ায় চূড়ান্ত চটে যান রণবীর কপূর। প্রাক্তন সাংবাদিকের বিবরণ অনুযায়ী, “রণবীর গাড়ি থামিয়ে সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসেন। রেগে আগুন হয়ে গাড়ির দরজা খুলে আমাদের ক্যামেরা ব্যাগ এবং মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে চম্পট দেন!”
পরবর্তীকালে নিজেদের মূল্যবান সরঞ্জাম ফেরত পেতে রণবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই সংবাদকর্মীরা। তখন রণবীর একটাই কঠোর শর্ত চাপিয়েছিলেন— ‘এরপর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আর কখনও যেন পিছু নেওয়া না হয়!’