Sameera Reddy: ‘ছোট স্তনে কাজ হবে না তাই…!’ এরপরই পরিচালক যা বলেছিলেন তা ভাবলে আজও গায়ে কাঁটা দেয় সমীরা রেড্ডির

Sameera Reddy Interview: নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর এক বিস্ফোরক ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী। ২০০২ সালে ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’ (Maine Dil Tujhko Diya) ছবির হাত ধরে বলিপাড়ায় পা রেখেছিলেন সামীরা। আর সেই ডেবিউ ছবিতেই কীভাবে তাঁর গায়ের রং জোর করে বদলে দেওয়া হয়েছিল এবং শরীরের গঠন নিয়ে নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছিল তাঁকে, তা নিয়ে মুখ খুললেন।

Sameera Reddy: ছোট স্তনে কাজ হবে না তাই...! এরপরই পরিচালক যা বলেছিলেন তা ভাবলে আজও গায়ে কাঁটা দেয় সমীরা রেড্ডির

|

Jul 17, 2026 | 4:07 PM

বলিউড অভিনেত্রী সামীরা রেড্ডি (Sameera Reddy) বিনোদন দুনিয়ার কৃত্রিম চাকচিক্য ও গ্ল্যামারের পিছনের অন্ধকার দিকটি নিয়ে বরাবরই অকপট। বডি পজিটিভিটি এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই চর্চার কেন্দ্রে থাকে। এবার নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোর এক বিস্ফোরক ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী। ২০০২ সালে ‘ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া’ (Maine Dil Tujhko Diya) ছবির হাত ধরে বলিপাড়ায় পা রেখেছিলেন সামীরা। আর সেই ডেবিউ ছবিতেই কীভাবে তাঁর গায়ের রং জোর করে বদলে দেওয়া হয়েছিল এবং শরীরের গঠন নিয়ে নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছিল তাঁকে, তা নিয়ে মুখ খুললেন।

সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে সামীরা জানান, তাঁর প্রথম ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁর আসল গায়ের রঙের চেয়ে অন্তত তিন শেড ফর্সা মেকআপ ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পর্দায় তাঁকে ‘আকর্ষণীয়’ দেখানোর জন্য প্যাডেড ব্রা (Padded Bras) ব্যবহার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। বিনোদন দুনিয়ার এই কৃত্রিম সৌন্দর্যের মাপকাঠি কীভাবে একজন নবাগতার আত্মবিশ্বাসে আঘাত হেনেছিল, সেই যন্ত্রণার কথাই এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম ছবির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে সামীরা বলেন, “যখন আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসি, তখন সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ছিল একদম আলাদা। আমার প্রথম ছবিতে আমার গায়ের রঙের চেয়ে তিন শেড হালকা (ফর্সা) মেকআপ করা হয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছিল, পর্দায় আরও ফর্সা দেখাতে হবে। একই সঙ্গে আমার স্তনের গঠন যাতে আরও বড় ও আকর্ষণীয় লাগে, তার জন্য প্যাডেড ব্রা পরতে বাধ্য করা হয়েছিল।”

অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, “সেই সময় একজন নবাগত হিসেবে আমার প্রতিবাদ করার মতো ক্ষমতা বা সাহস কোনওটিই ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির তৈরি করে দেওয়া সেই ছাঁচেই নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছিল। ক্যামেরার সামনে নিজেকে নিখুঁত দেখানোর এই ইঁদুরদৌড় আমার মানসিক শান্তিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।”

সামীরা জানান, শুধু কেরিয়ারের শুরুতেই নয়, তিনি যখন বলিপাড়ায় নিজের জমি শক্ত করে ফেলেছেন, তখনও এই তথাকথিত ‘পারফেক্ট বডি’-র চাপ তাঁর পিছু ছাড়েনি। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তাঁকে স্তন প্রতিস্থাপন বা ব্রেস্ট সার্জারি (Breast Surgery) করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বহু পরিচালক। এমনকী, বেশ কয়েকজন স্পষ্ট বলেছিলেন, স্তনের আকার ঠিক না হলে, ছবি পাওয়া যাবে না!

সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সামীরা বলেন, “একটা সময় আমার ওপর স্তন অস্ত্রোপচার করার জন্য প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা হয়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন, বলিউডে টিকে থাকতে হলে এটা দরকার। আমি ল্যাপটপে চিকিৎসকদের তালিকাও দেখে ফেলেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমার ভেতরের সত্ত্বা আমাকে আটকে দেয়। আমি ভাবলাম, কৃত্রিমভাবে নিজেকে বদলানোর এই পাগলামি আমি কেন করছি? আজ আমি অত্যন্ত খুশি যে আমি সেই ফাঁদে পা দিইনি।”

বর্তমানে দুই সন্তানের মা সমীরা সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশাল অনুরাগী মহল তৈরি করেছেন। সেখানে তিনি কোনও মেকআপ বা ফিল্টার ছাড়াই নিজের পাকা চুল, গায়ের আসল রং এবং মাতৃত্ব-পরবর্তী শরীরের মেদ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

 

Follow Us