
সত্তরের দশকে বলিউড কাঁপানো জুটি জিনত আমান এবং সঞ্জয় খানের সম্পর্ক নিয়ে বলিপাড়ায় চর্চার শেষ নেই। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ছিল যে, ১৯৭৯ সালে একটি পাঁচতারা হোটেলে জিনত আমানের ওপর হওয়া এক কথিত শারীরিক নির্যাতনের পরই তাঁদের সম্পর্ক চিরতরে ভেঙে যায়। তবে কয়েক দশক পর এবার সেই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন সঞ্জয় খানের কন্যা তথা জুয়েলারি ডিজাইনার ফারহা খান আলি। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর বাবা এবং জিনত আমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, তবে জিনতকে মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মিথ্যা’।
সম্প্রতি সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফারহা খান আলির কাছে তাঁর বাবা সঞ্জয় খান এবং জিনত আমানের বিয়ে নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, ওই সময়ে তিনি (সঞ্জয় খান) জিনতকে বিয়ে করেছিলেন। মুসলিম শরিয়ত মেনেই তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে মুসলিম নিয়মেই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদও হয়।”
ফারহা স্বীকার করেন যে, এই সম্পর্কের কারণে সেসময় তাঁর মা জারিন কাটরাক খানের সঙ্গে সঞ্জয় খানের বৈবাহিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জারিন যখন তাঁদের চতুর্থ সন্তানের (জায়েদ খান) জন্ম দিতে চলেছিলেন, সেই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই এই ঝড় বয়ে যায় পরিবারের ওপর।
তবে জিনত আমানের ওপর সঞ্জয় খানের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে সাফ খারিজ করে দিয়েছেন ফারহা। ঘটনার সময় তিনি বেশ ছোট ছিলেন উল্লেখ করে ফারহা বলেন, “তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৯ বা ১০ বছর, তাই সেই সময়ের খুব স্পষ্ট স্মৃতি আমার নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বাবাকে নিয়ে যে ভুয়ো গল্পটি বারবার ফিরে আসে— তিনি নাকি জিনত আমানকে মারধর করেছিলেন এবং তাতে অভিনেত্রীর চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল— এটি সম্পূর্ণ আষাঢ়ে গল্প। আমার বাবা কোনওদিন আমার মা বা আমাদের কোনও বোনের গায়ে হাত তোলেননি। কোনও মহিলার ওপর হাত তোলার মতো সহিংস মানুষ তিনি নন।”
জিনত আমানের চোখের আঘাতের বিষয়ে ফারহা তাঁর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার মা আমাকে জানিয়েছিলেন যে, জিনত আমানের মায়ের একটি চোখের রোগ ছিল। তাঁর একটি চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ছোটও ছিল। ফলে জিনত আমানের চোখের সমস্যাটি আসলে একটি বংশগত (Genetic) রোগ ছিল, সংবাদমাধ্যমে যা লেখা হয়েছিল তা নয়।”
মায়ের সততার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ফারহা আরও যোগ করেন, “আমার মা অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ এবং তিনি আমাকে স্পষ্ট বলেছিলেন যে বাবা কোনওদিন জিনত আমানের গায়ে হাত তোলেননি। তাই বাবা তাঁকে মারধর করেছিলেন— এই আজেবাজে কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যে।”
এমনকি সেসময় সঞ্জয় খানের স্ত্রী জারিন কাটরাক নিজে হোটেলে গিয়ে জিনত আমানকে আক্রমণ করেছিলেন— এমন খবরকেও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফারহা। তিনি বলেন, “আপনারা কি সত্যিই ভাবেন আমার মা কোনও মহিলার সঙ্গে এভাবে মারামারিতে জড়াতে পারেন? একদমই না, তিনি অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিশীল একজন মানুষ। মা যখন আমাদের এই বিষয়ে বলেছিলেন, তখন জানিয়েছিলেন— ‘তোমার বাবা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল, তাই আমি শুধু সেই মহিলাকে দোষ দিই না’। আকর্ষণ দুপক্ষের মধ্যেই ছিল। হয়তো সেসময় তাঁদের সম্পর্কে কোনও সমস্যা চলছিল। তবে মা যখন বলেছেন বাবা জিনতকে মারধর করেননি, আমি সেটাই বিশ্বাস করি।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে সঞ্জয় খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জিনত আমান। তবে এক বছরের মাথাতেই সেই বিয়ের পরিসমাপ্তি ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে অভিনেতা-পরিচালক মাজহার খানকে বিয়ে করেন জিনত। তাঁদের ঘরে আজান ও জাহান নামে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ১৯৯৮ সালে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে মাজহার খানের মৃত্যু হয়। ফারহার এই সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের পর জিনত-সঞ্জয়ের সেই পুরনো বিতর্ক নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বি-টাউনে।