Uttam Kumar: ঋতুপর্ণার শাড়িতে ‘সপ্তপদী’,শুভেন্দুর হাত ধরলেন রঞ্জিত মল্লিক, উত্তমের একশোতম জন্মদিনে কী কী ঘটল শহরে?

uttam kumar 100th birth anniversary: ৩ সেপ্টেম্বর সকালে টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশন চত্বরে আয়োজিত বিশেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিল এই ঐতিহাসিক উৎসবের। মহানায়কের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে টলিউডের প্রথম সারির তারকাদের উপস্থিতিতে কার্যত চাঁদের হাট বসেছিল টালিগঞ্জ চত্বরে।

Uttam Kumar: ঋতুপর্ণার শাড়িতে সপ্তপদী,শুভেন্দুর হাত ধরলেন রঞ্জিত মল্লিক, উত্তমের একশোতম জন্মদিনে কী কী ঘটল শহরে?

|

Sep 03, 2026 | 6:06 PM

মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে উৎসবের মেজাজ সমগ্র বাংলা বিনোদনজগতে। ৩ সেপ্টেম্বর সকালে টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশন চত্বরে আয়োজিত বিশেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিল এই ঐতিহাসিক উৎসবের। মহানায়কের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে টলিউডের প্রথম সারির তারকাদের উপস্থিতিতে কার্যত চাঁদের হাট বসেছিল টালিগঞ্জ চত্বরে।

তবে এ দিনের অনুষ্ঠানে পৃথকভাবে নজর কাড়েন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। মহানায়কের মূর্তিতে প্রণামের পর তাঁর পরিহিত বিশেষ শাড়িটি হয়ে ওঠে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ঘিয়েরঙা শাড়ির পাড়জুড়ে ছিল উত্তম-সুচিত্রা জুটির চিরচেনা মুখাবয়ব এবং আঁচলে ফুটে উঠেছিল ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানের স্মরণীয় দৃশ্যপট। ঋতুপর্ণার শাড়ি যেন ফের বাঙালিকে মনে করিয়ে দিল কৃষ্ণেন্দু-রিনা ব্রাউনের সেই কালজয়ী প্রেম।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে উপস্থিত হতে দেখা যায় অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের। তারপর তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্বের সূচনা করেন। এরপর উপস্থিত সকল অভিনেতা, অভিনেত্রী ও বিশিষ্টজনেরা মাল্যদান করেন। এদিন উপস্থিত ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক, হরনাথ চক্রবর্তী, গৌতম ঘোষ, সুদেষ্ণা রায়, পাপিয়া অধিকারীর মতো ব্যক্তিত্বরা।

এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে চার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। এর আগে নন্দনে আয়োজিত প্রস্তুতি বৈঠকে প্রসেনজিৎ, জিৎ, দেব, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও যিশু সেনগুপ্তরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করেন।

সাংবাদিক বৈঠকে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হল মহানায়কের সুবিশাল কর্মজীবন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা, যাতে আজ থেকে একশো বছর পরেও নতুন প্রজন্ম একইভাবে বাংলা সিনেমার মহানায়ককে স্মরণ ও উদ্‌যাপন করতে পারে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উত্তম কুমারের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, অভিনয়ের শুরুতে ব্যর্থতার মুখ দেখলেও কখনও হার মানেননি মহানায়ক। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবির স্ক্রিপ্টও উত্তম কুমারকে ভেবেই তৈরি হয়েছিল। মোদীর কথায়, “উত্তম কুমার চিরকাল মানুষের মনে রাজত্ব করবেন।”

আগামীকাল, অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বর রাজারহাটের নিউ টাউনে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপুজো অনুষ্ঠিত হবে। বছরভর সিনেমার অগ্রগতি ও শিল্পচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এর লক্ষ্য। নন্দনে শুরু হচ্ছে মহানায়কের ছবির ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, যার উদ্বোধনী ছবি ‘নায়ক’। একই সঙ্গে রবীন্দ্র সদনে বিশেষ ডাকটিকিট উন্মোচন, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, মিঠুন চক্রবর্তী-সহ বহু বিশিষ্টজনকে সংবর্ধনা এবং তরুণ মজুমদার ও স্বপ্ন দাসের তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও রয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে ‘নায়িকাদের চোখে উত্তম কুমার’ ও ‘অ্যাক্টিং অফ উত্তম কুমার’ শীর্ষক দুটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। শেষ দিন, অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ মিউজিক্যাল শ্রদ্ধার্ঘ্য। সব মিলিয়ে চার দিন ধরে নন্দন, রাধা স্টুডিও এবং শহরের রাজপথ গমগম করবে মহানায়কের স্মৃতিতে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us