
কিং খান, বলিউডের ‘বাদশা’, কিংবা মায়ানগরীর সবচেয়ে সফল তারকা—শাহরুখ খানের নামের সঙ্গে আজ জুড়ে রয়েছে অগণিত বিশেষণ। রয়েছে বিলাসবহুল প্রাসাদ ‘মন্নত’, কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য এবং বিশ্বজোড়া আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। তবে এই সুবিশাল রাজপ্রাসাদের ভিত্তিপ্রস্তর কিন্তু কোনও ঝলমলে মঞ্চে তৈরি হয়নি। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা, কঠিন লড়াই এবং দিল্লি থেকে মুম্বই পাড়ি দেওয়ার এক দীর্ঘ সংগ্রাম। সম্প্রতি অভিনেতার জীবনের এমনই এক অবিশ্বাস্য স্মৃতি ফের চর্চায় উঠে এসেছে, যা রূপকথাকেও হার মানায়।
ঘটনাটি শাহরুখের কেরিয়ারের একদম শুরুর দিকের। তখন তিনি অভিনয়জগতে নিজের জমি শক্ত করার চেষ্টা করছেন। অসুস্থ মা লতিফ ফাতিমা খানকে নিয়ে প্রার্থনা জানাতে আজমের শরিফে গিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সেখানে গিয়েই ঘটে বিপত্তি— পকেটে থাকা মাত্র ৫ হাজার টাকা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ৫ হাজার টাকা হারিয়ে ফেলা তাঁর জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা।
পকেটের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে যখন দিশেহারা তরুণ শাহরুখ, তখনই তাঁর দেখা হয় এক ফকিরের সঙ্গে। বিষণ্ণ শাহরুখকে দেখে সেই রহস্যময় ব্যক্তি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে একটি অদ্ভুত কথা বলেন। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে জানান, টাকা হারানোর জন্য দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই; ভবিষ্যতে তিনি এত বিপুল অর্থের মালিক হবেন যে তাঁর আয় নাকি ৫০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলবে!
তখনকার পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সেই কথাকে নিছকই মন ভুলানো গল্প বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ যার ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে অনিশ্চয়তার সুতোয়, তাঁর কাছে ৫০০ কোটির গল্প এক অসম্ভব স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।
বহু বছর পর সাফল্যের শিখরে বসে নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছিলেন শাহরুখ নিজেই। স্পষ্ট বক্তা হিসেবে পরিচিত শাহরুখ অবশ্য জানিয়েছিলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অলৌকিকতা বা ভবিষ্যদ্বাণীতে খুব একটা বিশ্বাসী নন। তবে এ কথাও তিনি সানন্দে স্বীকার করে নেন যে, সেদিন সেই আজমির শরিফের ফকিরের বলা প্রতিটি বর্ণ শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল।
দিল্লির গলির সাধারণ এক তরুণ, যিনি টেলিভিশনের পর্দা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তিনিই পরবর্তীতে হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। একের পর এক সুপারহিট সিনেমা, ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা এবং পরিশ্রমের শক্তিতে তিনি নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন যা তাঁর শুরুর দিনগুলোতে কল্পনা করাও দুঃসাধ্য ছিল।