
আজ তিনি ‘বলিউডের বাদশাহ’। মুম্বইয়ের বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সমুদ্রমুখী প্রাসাদ ‘মন্নত’-এর মালিক, কোটি কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন এবং পৃথিবীর অন্যতম ধনী অভিনেতা। কথা হচ্ছে শাহরুখ খানকে নিয়ে। বক্স অফিসে তাঁর এক একটি ছবি মানেই শত শত কোটির ব্যবসা। কিন্তু এই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পথটা একদমই সহজ ছিল না। জানলে অবাক হবেন, আজকের এই শতকোটি টাকার মালিক তাঁর প্রথম বড় পর্দার কাজের জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন অতি সামান্য এক অঙ্ক।
শাহরুখের প্রথম রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ ১৯৯২ সালের ‘দিওয়ানা’ ছবির মাধ্যমে। যদিও এর আগেই তিনি একাধিক ছবিতে সাইন করেছিলেন, তবে প্রথম মুক্তি পায় ‘দিওয়ানা’। বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পেয়েছিল রাজ কানওয়ার পরিচালিত এই ছবি। তবে এই হিট ছবির জন্য শাহরুখ কত টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন জানেন?
শোনা যায়, ‘দিওয়ানা’ ছবির জন্য শাহরুখকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১১ হাজার টাকা! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যে অভিনেতা আজ এক একটি ছবির জন্য ১০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁকেন, তিনি তাঁর প্রথম ডেবিউ সিনেমার জন্য পেয়েছিলেন মাত্র ১১,০০০ টাকা। তবে এর থেকেও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ছবিটি মুক্তির পর শাহরুখ নাকি পুরো সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে শেষ পর্যন্ত দেখেনইনি!
এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ নিজেই রহস্য উন্মোচন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কেন নিজের প্রথম ছবি দেখেননি। অভিনেতার কথায়, “কোনো কিছুর শুরু বা শেষ দেখাটা আমি পছন্দ করি না। আমি কাজের প্রক্রিয়ার সময়টাকে বেশি উপভোগ করি। তাই ‘দিওয়ানা’ ছবিটা আমি আজ পর্যন্ত পুরোপুরি দেখিনি।”
তবে এই ১১ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে শুরু হওয়া সফরটাই আজ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্যে রূপ নিয়েছে। নিজের কঠোর পরিশ্রম, ডেডিকেশন আর অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছিলেন ‘কিং খান’। ১১ হাজার টাকার সেই সাধারণ তরুণ আজ সত্যিই বলিউডের এক অনন্য ‘বাদশাহ’।