
আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ও বলিউড বাদশা, যাঁর জীবনযাত্রার রাজকীয়তা দেখে তাক লেগে যায়। কিন্তু বলিউডের ‘কিং খান’ অর্থাৎ শাহরুখ খানের জীবনের সূচনাটা একেবারেই আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই ছিল। প্রথম উপার্জনের মাত্র ৫০ টাকা পকেটে নিয়ে যে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন শাহরুখ, তা হয়তো আজও তাঁর স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল।
দিল্লিতে থাকাকালীন বিখ্যাত গজল গায়ক পঙ্কজ উদাসের একটি লাইভ কনসার্টে দর্শকদের আসন দেখিয়ে দেওয়ার কাজ পান তরুণ শাহরুখ। সেই কনসার্টে কাজ করার পর হাতে পেয়েছিলেন জীবনের প্রথম পারিশ্রমিক— মাত্র ৫০ টাকা! তবে সেই জমানায় এই অঙ্কটাই কম ছিল না এক উঠতি যুবকের কাছে।
প্রথম উপার্জনের সেই পুরো টাকাটাই শাহরুখ খরচ করেছিলেন নিজের একটি বহুদিনের স্বপ্নপূরণে। দেরি না করে তিনি ট্রেনের টিকিট কেটে সোজাসুজি পৌঁছে যান আগ্রায়— উদ্দেশ্য, চোখের সামনে একবার বিশ্বখ্যাত প্রেমের ইমারত ‘তাজমহল’কে দর্শন করা।
তাজমহল দেখার পর হাতে টিকে ছিল অতি সামান্য কিছু টাকা। তা দিয়েই একটি দোকান থেকে কিনেছিলেন এক গ্লাস ‘পিঙ্ক লস্যি’। তবে সেই আনন্দে জল ঢালল এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। লস্যি গ্লাসে এসে পড়ে একটি মৌমাছি! টাকা নষ্ট করার উপায় ছিল না, তাই মৌমাছিটিকে কোনওরকমে সরিয়ে রেখেই পুরো লস্যিটি এক চুমুকে শেষ করেন শাহরুখ।
তবে পরিণাম শুভ হয়নি! বিষাক্ত মৌমাছি পড়া লস্যি খাওয়ার ফলে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শাহরুখ। প্রথম উপার্জনের স্মৃতি যেমন আনন্দের ছিল, তেমনই এই পিঙ্ক লস্য়ির ঘটনাটি শাহরুখের জীবনের অন্যতম মজার ও অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থেকে গিয়েছে।