
আজ মুম্বইয়ের বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সমুদ্রমুখী প্রাসাদ ‘মন্নত’-এর কথা কে না জানে! যার আনুমানিক বাজারমূল্য এখন প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তবে এই রাজপ্রাসাদ, অঢেল খ্যাতি কিংবা ‘সুপারস্টার’ তকমা—কোনও কিছুই রাতারাতি বা বিনাশ্রমে পাননি বলিউডের ‘বাদশাহ’ শাহরুখ খান। দিল্লির এক সাধারণ পরিবার থেকে এসে আরব সাগরের পাড়ে রাজত্ব কায়েম করার নেপথ্যে ছিল সীমাহীন রক্ত জল করা পরিশ্রম, নির্ঘুম রাত আর অদম্য জেদ।
শুরুর দিনগুলোতে মায়ানগরীতে নিজের কোনও অস্তিত্ব ছিল না শাহরুখের। স্ত্রী গৌরীকে নিয়ে প্রথমে তিনি উঠেছিলেন পরিচালক আজিজ মির্জার বাড়ির একটি ছোট্ট ঘরে। এরপর তাজ হোটেলের কাছে একটি ভাড়া বাড়িতে কিছুদিন দিনযাপন। কিন্তু মনে সবসময় উঁকি দিত নিজের একটা স্বপ্নের আস্তানা গড়ে তোলার ইচ্ছে। সেই স্বপ্নই বাস্তবায়িত হয় ২০০১ সালে, যখন তিনি কিনে নেন ‘মন্নত’।
তবে তখনকার দিনেও সেই বাড়ি কেনার পথটা সহজ ছিল না। সেই সময় মন্নত কিনতে শাহরুখের খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু অভিনেতার ব্যাঙ্কে তখন জমা ছিল মাত্র ২ কোটি টাকা! নিজের কাজের ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে বাকি অর্থ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ হিসেবে নেন তিনি। পরে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছিলেন, কেনার সময় বাড়িটির বেশ কিছু অংশ বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু তা নতুন করে মেরামত করার মতো অর্থ তখন তাঁর হাতে ছিল না। তাই তিনি স্ত্রী গৌরীকে দায়িত্ব দেন মনের মতো করে অল্প খরচে বাড়িটি সাজিয়ে তুলতে। গৌরীর রুচিশীল নকশাতেই আজ পূর্ণতা পেয়েছে এই ঐতিহাসিক বাংলো।
দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে মাত্র চার বছরের মধ্যেই ব্যাঙ্কের সমস্ত ঋণ শোধ করে দেন শাহরুখ। তৈরি করেন নিজের সাম্রাজ্য। তবে মন্নতকে ঘিরে রয়েছে আরও এক মজার তথ্য। জানা যায়, শাহরুখের আগে এই বাড়িটি কেনার কথা ছিল সলমন খানের! কথাবার্তাও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাবা সেলিম খানের এক কথায় পিছিয়ে আসেন সলমন। সেলিম খান তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “এত বড় বাড়ি নিয়ে একটা মানুষ করবেটা কী?” বাবার যুক্তি মেনে সলমন পিছিয়ে আসায় হাতবদল হয়ে বাংলোর স্বত্ব চলে যায় শাহরুখ খানের হাতে, যা আজ পরিচিত মায়ানগরীর অন্যতম বড় ল্যান্ডমার্ক হিসেবে।