
১৯৬১ সাল। কলকাতার বিখ্যাত রক্সি পেক্ষাগৃহে স্ক্রিনজুড়ে তখন শাম্মি কাপুরের উদ্দাম নৃত্য আর রুপোলি পর্দার ‘জংলি’ ঝড়ের দাপট। সেই ছবির বিশেষ প্রিমিয়ারে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার। পর্দায় শাম্মির অভিনয়শৈলী দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন উত্তম, তেমনই উত্তম কুমারের অনুরাগী শাম্মি কাপুরও অনুভূতির নিবিড় প্রকাশ হিসেবে মহানায়কের আঙুলে পরিয়ে দিয়েছিলেন এক মূল্যবান হিরের আংটি। তবে কেবল উপহারে সীমাবদ্ধ ছিল না তাঁদের এই সম্পর্ক; ছিল পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধা। কিন্তু এই বন্ধুত্ব সত্ত্বেও একটি বিষয়ে একদম স্পষ্ট ছিলেন বলিউডের ‘ইয়াহু স্টার’— তিনি চাননি উত্তম কুমার কোনওভাবেই হিন্দি সিনেমার দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নিন।
ছয়ের দশকে কাজের সূত্রে কিংবা ব্যক্তিগত সফরে শাম্মি কাপুর যখনই তিলোত্তমায় আসতেন, উত্তম কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁর নতুন ছবি দেখা ছিল কার্যত বাধ্যতামূলক। মহানায়কের অভিনয়ের প্রতি শাম্মির এই বিশেষ টান তৈরি হয়েছিল তাঁর অসামান্য অভিনয় দক্ষতা দেখে। তবে শাম্মি কাপুরের মনে এক গভীর সংশয় কাজ করত। তিনি অন্তর থেকে বিশ্বাস করতেন, উত্তম কুমারের মতো বিরল ও সূক্ষ্ম প্রতিভাকে মূল্যায়ন করার মতো দূরদর্শিতা তৎকালীন বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ছিল না।
শাম্মির সেই আশঙ্কা যে কতটা সত্যি ছিল, তা প্রমাণিত হয় ১৯৬৭ সালে। সেই বছর উত্তম কুমারের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থেকে বিপুল ব্যয়ে মুক্তি পেয়েছিল ‘ছোটি সি মুলাকাত’। কিন্তু বিপুল প্রত্যাশা সত্ত্বেও বক্স অফিসে চরম ব্যর্থতার মুখোমুখি হয় ছবিটি। সেই বাণিজ্যিক বিপর্যয়ের পরেই শাম্মি কাপুর আক্ষেপ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছিলেন, “উত্তম কুমারের মতো অসাধারণ প্রতিভার সঙ্গে সুবিচার করা হিন্দি সিনেমার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। ওঁর আসল সাম্রাজ্য বাংলা সিনেমাই।”