Sharmila Tagore: ১৫ মাসের বেশি নাকি টিকত না সম্পর্ক! বাধ্য হয়েই লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন শর্মিলা-পতৌদি

Sharmila Tagore and Tiger Pataudi Relationship: তবে তাঁদের এই সম্পর্কের জার্নি সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর খোলসা করেছেন যে, বিয়ের আগে তাঁরা একসঙ্গে লিভ-ইন করতেন। পাশাপাশি তাঁদের ভিন্নধর্মী বিয়ের কারণে সে সময় সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের তীব্র কটাক্ষ এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের পরিবারকে।

Sharmila Tagore:  ১৫ মাসের বেশি নাকি টিকত না সম্পর্ক! বাধ্য হয়েই লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন শর্মিলা-পতৌদি

|

Jun 29, 2026 | 1:13 PM

বলিউড ও ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম রূপকথার জুটি ছিলেন তাঁরা। ২০১১ সালে মনসুর আলি খান পতৌদির (টাইগার) প্রয়াণের আগে দীর্ঘ ৪৩ বছর দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তবে তাঁদের এই সম্পর্কের জার্নি সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর খোলসা করেছেন যে, বিয়ের আগে তাঁরা একসঙ্গে লিভ-ইন করতেন। পাশাপাশি তাঁদের ভিন্নধর্মী বিয়ের কারণে সে সময় সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের তীব্র কটাক্ষ এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁদের পরিবারকে।

সাংবাদিক বরখা দত্তের ‘মোজো স্টোরি’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ” দুজনের কেরিয়ারের চাপেই দেখা করার সময় হতো না। একসঙ্গে সময়ও কাটানো হত না। তাই নিজেদের ভালো করে চেনার সুবিধার জন্য বিয়ের আগে আমরা একসঙ্গেই থাকতাম। আমি ঘরদোর গোছানোর ব্যাপারে খুবই আনাড়ি ছিলাম। বাড়িতে কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলত না। তাই টাইগার প্রায়শই ‘ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়া’-তে গিয়ে স্নান করে আসত। তবে বছরের পর বছর ধরে আমি ঘরকন্নার কাজ শিখেছি। এখন আমি নিজের ঘর নিয়ে বেশ গর্বিত।”

১৯৬৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শর্মিলা ও পতৌদি। কিন্তু তাঁদের এই ভিন্নধর্মী বিয়ে সে সময়কার সমাজ সহজে মেনে নেয়নি। শর্মিলা জানান, পরিচালক যশ চোপড়াও তাঁদের এই সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। শর্মিলার কথায়, “আমি অভিনয়ে এবং টাইগার ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকায় আমরা বাইরের চাপ অতটা টের পাইনি। কিন্তু আমার বাবা-মা এবং টাইগারের মায়ের ওপর মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম তো আমাদের বিয়েকে ১৫ মাসের বেশি সময় দিতেই চায়নি। সবাই ধরে নিয়েছিল এই বিয়ে টিকবে না। আমার ভালো বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে যশ চোপড়া আমাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘এই নবাবদের বিশ্বাস করা কঠিন, খুব সাবধানে থেকো।'”

অভিনেত্রী আরও জানান, তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে, শর্মিলার বাবা-মায়ের কাছে উড়ো টেলিগ্রাম আসতে শুরু করে। সেই সব টেলিগ্রামে লেখা থাকত— এবার বুলেট কথা বলবে। নিরাপত্তার খাতিরে একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল।

ছয়ের দশকে এক সাধারণ বন্ধুর মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খানের। প্রেমপর্ব চলাকালীন পতৌদি লন্ডন থেকে শর্মিলার জন্য এয়ার কন্ডিশনার এবং গোলাপ ফুল পাঠান। নবাব পতৌদির রসবোধের কথা উল্লেখ করে শর্মিলা হাসতে হাসতে বলেন, “ওর সেন্স অফ হিউমার একটু অন্যরকম ছিল। ও নিজের জোকসে নিজেই হাসত, কারণ আমরা কেউই সেগুলো বুঝতাম না। এসব শুনলে আমার ছেলেমেয়েরা (সাইফ, সোহা) আমাকে মেরেই ফেলবে যে আমি ওদের বাবার নামে কী সব বলছি!”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের ভালোবাসাটা প্রথম দেখায় প্রেম ছিল না। তবে একটা নিবিড় টান ছিল। আমার মনে হয়েছিল, এই মানুষটা আমাকে কখনও ইচ্ছে করে আঘাত করবে না। আমি ওকে চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারতাম। আর একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেটাই তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই না?”

Follow Us