
বলিউড তারকা সোনু সুদ (Sonu Sood) ফের প্রমাণ করলেন, পর্দায় যাই করুন না কেন, বাস্তবের ময়দানে মানুষের বিপদে তিনি সব সময় আগে থাকেন। সম্প্রতি বিধ্বংসী হড়পা বান আর বন্যায় একেবারে ভেসে গিয়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ গিয়েছে, তলিয়ে গিয়েছে ঘরবাড়ি। চরম এই দুর্দশার খবর কানে আসতেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি সোনু। ভারত থেকে সোজা ত্রাণের গাড়ি নিয়ে কাঠমান্ডুতে পা রাখলেন তিনি।
সেখানে পৌঁছেই দুর্গত মানুষদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। শুধু শুকনো মুখে আশ্বাস দেওয়া নয়, ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া বস্তা বস্তা খাবার আর প্রচুর কম্বল তুলে দেন গৃহহারাদের হাতে। কাঠমান্ডুতে দাঁড়িয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই-এর মুখোমুখি হয়ে সোনু স্পষ্ট বলেন, “আমরা এখানে এসেছি বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাঁদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিতে। আমরা চেষ্টা করব তাঁদের জীবন আবার নতুন করে গড়ে তোলার।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু এক বেলার খাবার দিয়ে এই পরিবারগুলোকে বাঁচানো যাবে না। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে এদের ফের মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহায্য করতে হবে। সোনুর নিজের কথায়, “নিজের সাধ্যমতো এগিয়ে আসা প্রত্যেকের কর্তব্য। আমরা প্রচুর কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। এখনও মানুষের কী কী চাই, তা জেনে নিচ্ছি। তাঁদের যা যা দরকার, আমরা ভারত থেকে পাঠানোর পুরো চেষ্টা করছি। আগামী কয়েক মাসেও যাতে নেপালে নিয়মিত ত্রাণ পৌঁছয়, আমরা সেই দিকটাও নজরে রাখব।”
আসলে সোনুর এই ছুটে যাওয়া হঠাৎ করে নয়। গত ২৬ অগস্ট সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে তিনি নিজেই অভয় দিয়ে লিখেছিলেন, “নেপাল, তোমরা একা নও। খাবার, আশ্রয় এবং তোমাদের আবার নতুন করে বাঁচার শক্তি জোগাতে আমরা আসছি।” সেই কথা মুখেই রেখে দেননি, বাস্তবে কাজে করে দেখালেন।
অন্য দিকে, নেপালের ঘরের মেয়ে তথা অভিনেত্রী মনীষা কৈরালাও দেশের এই শোচনীয় অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলের কাছে হাত জোড় করেছেন। সদগুরুর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ডাক দেন, এই জলমগ্ন পাহাড়ি দেশকে বাঁচাতে ভারত, চিন এবং নেপাল, তিন দেশেরই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসা দরকার। একই সঙ্গে মনীষা আবেদন জানিয়েছেন, বন্যার মতো দুর্যোগ এলেও নেপালের পর্যটন যেন কিছুতেই বন্ধ না হয়ে যায়। কারণ বাইরের মানুষের আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে পাহাড়ি মানুষগুলোর রুটি-রুজি আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। বিপদের এই কালো মেঘের মাঝে তারকাদের এমন এগিয়ে আসা নিঃসন্দেহে নেপালের সাধারণ মানুষের