
ইউটিউবের জনপ্রিয় শো ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’ (India’s Got Latent)-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের নিয়ে কুরুচিকর চটুল রসিকতা করার জল অনেক দূর গড়িয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি জে ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানির শুরুতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বেঞ্চ মন্তব্য করে, আদালতের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরবর্তী আচরণের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে সময় রায়নাদের।
মামলার শুনানিকালে সময় রায়নার পাবলিক ইমেজ বা সামাজিক ভাবমূর্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলেন আদালতের সহায়তাকারী তথা ‘অ্যামিকাস কিউরি’ অপরাজিতা সিং। তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন যে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সময় রায়না রমরমিয়ে নিজের শো করে যাচ্ছেন, অথচ স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রোফি (SMA) আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা ‘এসএমএ ফাউন্ডেশন’ বা এই মারণব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনও রকম চেষ্টাই করেননি। অপরাজিতা সিং উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “সময় রায়না একের পর এক শো করে যাচ্ছেন, কিন্তু আদালতের নির্দেশ মেনে এসএমএ আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর কোনও সদিচ্ছাই দেখাননি। উনি কী ধরণের ইয়ুথ আইকন বা যুব সমাজের আদর্শ, তা ভাবতেও আমার ভয় লাগে!”
একই সঙ্গে সময় রায়নার তরফ থেকে আদালতে পেশ করা দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ জবাব দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। ক্ষুব্ধ হয়ে সেই জবাবকে “ছুড়ে ফেলে দিন” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন এই আইনি জটিলতা?
বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৫ সালে ইউটিউবে স্ট্রিম হওয়া ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’ সিজন ১-এর দুটি পর্বকে কেন্দ্র করে। যেখানে সময় রায়না এবং তাঁর সহ-কমেডিয়ানরা স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রোফি (SMA) নামক স্নায়ুরোগে আক্রান্ত একটি শিশু, দৃষ্টিহীন এবং ট্যারা মানুষদের লক্ষ্য করে চরম আপত্তিকর ও অসংবেদনশীল মন্তব্য করেছিলেন। এই নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হওয়ার পর কনটেন্ট ক্রিয়েটর রণবীর এলাহবাদিয়া ও আশিস চঞ্চলানি এবং ‘কিওর এসএমএ ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কৌতুকশিল্পীদের সমন পাঠায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার নির্দেশ দেয়।
এদিনের শুনানিতে আদালত এই পাঁচ কমেডিয়ানকে অবিলম্বে প্রকাশ্য ক্ষমা চাইতে এবং প্রতি মাসে অন্তত দুটি করে বিশেষ চ্যারিটি কমেডি শো আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছে, যেখান থেকে সংগৃহীত অর্থ স্পাইনাল মাস্কুলার অ্যাট্রোফি (SMA) আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।
পাশাপাশি বেঞ্চ কড়া সুরে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জরিমানার টাকা জমা না দিলে বা নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তির বহর বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “প্রয়োজনে জরিমানার পাশে আরও একটি শূন্য যোগ করা হতে পারে।” অর্থাৎ, নির্দেশ পালন না করলে ৩ লক্ষ টাকার জরিমানা একলাফে ৩০ লক্ষ টাকায় পরিণত হতে পারে।