
সুস্মিতা সেন, রাতারাতি ভাগ্য পাল্টেছিল যাঁর বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব। তার আগে পর্যন্ত বিশ্ব সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল তাঁর, পার্টি ম্যানার কেমন হয়। পোশাক থেকে শুরু করে তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন বিভিন্ন জিনিস ছিল ভীষণ সাধারণ। তাঁর মা খুব যত্ন করে তা বানিয়েছিলেন সস্তার দোকান থেকেই। সুস্মিতা নিজের লুক, নিজের চাকচিক্যে সকলের মন জয় করেছিলেন ঠিকই, তবে নিজেকে বিশ্বের দরবারে কীভাবে উপস্থাপনা করতে হয়, সেই খুটিনাটি বিষয়গুলো মাত্র ১৮ বছরের সুস্মিতার ছিল অজানা। তিনি জানতেন না কীভাবে টেবিলে সকলের সঙ্গে ডিনার করতে হয়, কোন চামচের কী ব্যবহার, কোন খাবার, কীভাবে খেতে হয়। তিনি তখন সঠিকভাবে ইংরেজিও বলতে পারতেন না। সম্প্রতি কার্লি টেইলস-এ তাঁর সাক্ষাৎকারে এমনই বহু অজানা তথ্য সামনে উঠে আসে।
এদিন সুস্মিতা সেনকে বলতে শোনা যায়, তিনি যখন বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব জয়ের পর মস্কোতে নিমন্ত্রণ পত্র পেয়েছিলেন, তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না, সেদিন ডিনারটা সকলের সঙ্গে করবেন কীভাবে। তাঁর কথায়, ”আমার ভীষণ খিদে পেয়েছিল, পাশে আমার ট্যুর ম্যানেজার ছিলেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে খাব, আমি সেভাবে ইংরেজি বলতেও পারতাম না। আমার ম্যানেজার সেই সময় আমায় ভীষণ সাহায্য করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, তিনি যথাসম্ভব আমায় বলে বলে দেবেন। তবে আমি দেখি, সকলেই সেখানে বসে আছেন, কেউ খাচ্ছেন না। আমি যখন ম্যানেজারকে প্রশ্ন করি, তিনি আমায় বলেছিলেন, সকলেইরই খিদে পেয়েছে, আপনি শুরু করলেই সকলে খাবেন।”
সুস্মিতা এদিন হাসতে হাসতে আরও জানান, তিনি একটা পন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন, যা তাঁর পরিবারের থেকে তিনি শিখেছিলেন, ডিনারের নিমন্ত্রণ পেলে বাড়ি থেকে খেয়ে যেতে, যাতে খেতে বসে একটা সময়ের পর হাসি মুখে বলা যায়, ”আর লাগবে না”।