
তিলোত্তমার বিচার চেয়ে পথে পথে সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি। সকলেই এক হয়ে রাজনীতি ভুলে পা মিলিয়েছেন বিচারের আশায়। রাত দিন এক করে চলছে প্রতিবাদ। রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ধর্না। রাতের পর রাত জাগছে শহর কলকাতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় থেকে শুরু করে পথে নেমে প্রতিবাদ, সেলিব্রিটিরা তালিকায় নাম লিখিয়েছেন বারেবারে। তবে একশ্রেণি তাঁদের নিয়েও কটাক্ষ করতে পিছপা হননি। কে মেকআপ করে আছেন, কে লিপস্টিক গাঢ় পরেছেন, কার পোশাক কেমন, কে কে হেসেছেন, সবটাই ফ্রেম বন্দি হয়ে শুরু হয় ট্রোলের বন্যা। একাধিকবার তার উত্তরও দিয়েছেন অভিনেত্রীরা। কেউ হয়তো শুটিং স্পট থেকে সরাসরি মিছিলে এসেছেন, তাঁর কাছে মেকআপ তোলার থেকে আগে বেশি জরুরী ছিল সঠিক সময় মিছিলে পা মেলানো, সেখানে দাঁড়িয়ে এগুলো আলোচনা না হওয়ায় ভাল। এবার একই সুরে মন্তব্য করলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
ট্রোলারদের উদ্দেশে, তিনি লিখলেন, ‘যাঁরা হেসেছি বলে ট্রোল করতে ব্যস্ত, তারা কেউ একবারও জিজ্ঞেস করল না কিন্তু যে, এতগুলো মেয়ে রাস্তায়, শ্যামবাজারের মোড়ে, তাঁরা কোথায় বাথরুম যাবে? কারও পিরিয়ড হলে কোথায় প্যাডের ব্যবস্থা হবে? ছি ছি, এসব একদম ভাববেন না।’
স্বস্তিকা প্রথম থেকেই এই লড়াইয়ে সামিল। রাতের পর রাত জাগছেন তিনি। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসি মুখে ছবি শেয়ার করে লিখলেন, ‘আমি সন্দীপ ঘোষ নই। আমি রেপ করিনি। আমি খুনও করিনি। রাস্তায় নেমে ১৫ ঘণ্টা ধরে প্রতিবাদ রত মহিলা বা পুরুষদের সারাক্ষণ মুখ গম্ভীর করে থাকতে হবে সেই নিয়মটা কে বানালো? আর কোন নিয়ম মানব না। যেভাবে মনে হবে সেই ভাবে রাস্তায় নামব, দিনে, রাতে। এরা আমার অপরিচিত। এদের সবার সঙ্গে আজকে আলাপ হলো। কত অচেনা মানুষ চেনা হয়ে উঠছে। বেশ করেছি হেসেছি। যারা ২০ দিন ধরে রোজ জেগে আছে তারা যে ভাবে ভাল থাকার হোক থাকুক। যে যেভাবে প্রতিবাদ করার করুক। হেসে বা না হেসে। এই নিয়েও আবার কণ্ঠ তুলতে হচ্ছে, সত্যি কী দুঃসময়। যে যত ট্রোল করবি কর। হেসে হেসেই প্রতিবাদ করব। তোরা বাড়িতে বসে ফেসবুক ফেসবুক খেলা কর।’