
পাপারাজ্জিদের সঙ্গে স্পষ্টভাষী ও কঠোর আচরণের কারণে প্রায়শই জয়া বচ্চনের সঙ্গে তুলনা করা হয় অভিনেত্রী তাপসী পান্নুকে। নেটদুনিয়ায় অনেকেই তাঁকে ‘দ্বিতীয় জয়া বচ্চন’ কিংবা ‘জয়া বচ্চন লাইট’ বলে কটাক্ষ করলেও, বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাপসী বলেন, “আমি বিষয়টিকে প্রশংসা হিসেবেই দেখি। সবসময়ই ইতিবাচক দিকটা দেখা পছন্দ করি। জয়া বচ্চন অত্যন্ত গুণী একজন অভিনেত্রী এবং একজন শক্তিশালী নারী। তাঁর সঙ্গে আমার তুলনা করে মানুষ প্রকৃতপক্ষে আমার প্রতি অনেক বেশি দয়া দেখাচ্ছেন।”
মূলত সংবাদমাধ্যমের আলোকচিত্রীদের সঙ্গে একাধিকবার বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর কারণেই এই আলোচনার সূত্রপাত। ২০২২ সালে ‘দোবারা’ ছবির প্রচারের সময় এমনই এক ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। দেরিতে পৌঁছনোর অভিযোগে আলোকচিত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করলে তাপসীও তাঁদের রূঢ় আচরণের কড়া প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, উপরি পাওনা হিসেবে ছবি তোলার এই মনোভাব তিনি মেনে নেবেন না।
ওই ঘটনার পর তাপসীকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় নানা সমালোচনা হয়। এমনকী, পাপারাজ্জিদের একাংশের দাবি ছিল, মেজাজী স্বভাবের কারণে তাঁর ছবি তুলতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাপসীর সাফ কথা, তিনি কখনওই কারও সঙ্গে অশালীন আচরণ করেননি বা গলা উঁচু করে কথা বলেননি। তাঁর মতে, নিজের ব্যক্তিগত সীমানা ধরে রাখার নীতিতেই অনেকে বিচলিত হন।
তিনি বলেন, “আমি কাউকেই গালিগালাজ করি না। কিন্তু আমার কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল, সেই সীমানাগুলো খুব স্পষ্ট। আর একজন নারী যখন নিজের নীতিতে অটল থাকেন, তখন অনেক মানুষই ভয় পেয়ে যান। তাঁরা আমার এই স্পষ্টবাদী অবস্থান পছন্দ করেন না।”
অভিনেত্রীর দাবি, আলোকচিত্রীরা তাঁর সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বললেও সমাজ আশা করে যে একজন নারী হিসেবে তিনি নম্র ও নমনীয় থাকবেন। তাপসী ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, “বাবা-মায়ের পর এত বড় হওয়ার পর আর কেউ আমার ওপর চিৎকার করেনি। কিন্তু ওঁরা কাছে দাঁড়িয়েও ক্রমাগত চিৎকার করতে থাকেন—‘তাপসী! তাপসী!’ এত কাছে দাঁড়িয়ে থাকার পরও চিৎকার করার কী দরকার, তা আমার বোধগম্য নয়।”
তবে তা সত্ত্বেও তিনি কখনও পাল্টা চিৎকার করেননি বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভিডিয়োগুলির শিরোনাম ও ক্যাপশন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তাপসীর কথায়, “আমি যখন সত্যি সত্যি কারও ওপর রাগ করি, তখন আমি চুপ করে যাই, সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যাই। যে মানুষের ওপর আমার রাগ হয়, আমি তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ বা তর্কই করি না। আমি নিজেকে চিনি এবং আমি যথেষ্ট সম্মান বজায় রেখেই কথা বলেছি।”