
এক বছরের বেশি সময় অতিক্রম করলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারির সেই অভিশপ্ত রাতের আতঙ্ক আজও পুরোপুরি তাড়া করে বেড়ায় কাপুর ও খান পরিবারকে। মুম্বইয়ের বান্দ্রার নিজ বাসভবনে আচমকাই আততায়ীর হামলার মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খান। ঘরের ভেতরে ঢুকে এক দুষ্কৃতী তাঁকে একাধিকবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অভিনেতাকে, যেখানে জটিল অস্ত্রোপচারের পর কয়েকদিন জীবন-মৃত্যুর চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল তাঁকে। সেই ঘটনার পর থেকে সাইফকে ঘিরে পুরো পরিবারের মধ্যে যে চরম উদ্বেগ ও মানসিক ট্রমা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে।
তবে এবার সেই ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিবারের ভেতরের এক অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্তের সত্য প্রকাশ্যে আনলেন করিনা কাপুর খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে করিনা জানান, সাইফের ওপর হামলা চালানো সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়ার প্রথম আর্জিটি এসেছিল তাঁদের বড় ছেলে তৈমুর আলি খানের কাছ থেকে।
করিনার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁদের জানিয়েছিল যে আটক ব্যক্তি কেবল অর্থের লোভেই সেই রাতে বাড়িতে অনুপ্রবেশ করেছিল। বাড়ির পরিচারিকাকেও সে নাকি একই কথা জানিয়েছিল। ওই ব্যক্তি দাবি করে, তার মায়ের জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল এবং সেই টাকা যোগাড় করতেই সে এই পথ বেছে নিয়েছিল। পুলিশের এই তদন্ত রিপোর্ট শোনার পরই ছোট্ট তৈমুর দারুণভাবে বিচলিত হয়ে পড়ে।
করিনা জানান, তৈমুর তখন সইফকে উদ্দেশ্যে করে বলে ওঠে, ‘‘আব্বা, ওকে ক্ষমা করে দাও।’’ করিনা আরও যোগ করেন, সইফ নিজেও মনের দিক থেকে তাকে ক্ষমা করে দিতে চেয়েছিলেন, তাই ছেলের এই নিষ্পাপ আকুতি তাঁর সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছিল। তবে পুরো বিষয়টি মেনে নেওয়া করিনার পক্ষে ততটা সহজ ছিল না। কারণ ক্ষমা করা এক জিনিস, কিন্তু সইফ যে প্রাণঘাতী শারীরিক আঘাত ও দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, স্ত্রী হিসেবে তার উপযুক্ত বিচার চাওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। করিনা জানান, সইফের সেই অসহ্য কষ্ট চোখের সামনে দেখার পর এই ক্ষমা আর ন্যায়বিচারের সমীকরণটা তাঁর কাছে এখনও বেশ জটিল।
উল্লেখ্য, সইফ নিজেও এর আগে এক সাক্ষাৎকারে সেই হামলাকারীকে ক্ষমা করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, হয়তো লোকটি তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আসেনি, বরং চরম আর্থিক অনটনের কারণেই এমন অপরাধমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিষয়টিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি করুণ প্রতিফলন হিসেবেও দেখান সইফ।
শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরলেও, ঘটনার মনস্তাত্ত্বিক ছাপ সাইফের অবচেতন মনে রয়ে গিয়েছে গভীরভাবেই। অভিনেতা নিজেই স্বীকার করেছিলেন, এখনও ধারালো ছুরি দেখলে এক অজানা আতঙ্কে শিউরে ওঠেন তিনি।