টলিপাড়ায় শুটিংয়ের সমস্যা মিটবে কী করে? নন্দনে রূপা-রুদ্রনীল-হিরণ-পাপিয়ার জরুরি বৈঠক

ফেডারেশনের আগের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের কাজের মেয়াদ। রাজ্যে সরকার বদলের পরে ফেডারেশন থাকবে কিনা নাকি কাজ চলবে কনফেডারেশনের হাত ধরে, কীভাবে এগোবে টলিপাড়ার সমগ্র শুটিংয়ের পদ্ধতি, তাই নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়, টেকনিশিয়নদের তরফে কিছু ক্ষোভের কথা জানা যায়।

টলিপাড়ায় শুটিংয়ের সমস্যা মিটবে কী করে? নন্দনে রূপা-রুদ্রনীল-হিরণ-পাপিয়ার জরুরি বৈঠক

| Edited By: আকাশ মিশ্র

Jul 13, 2026 | 8:42 PM

৪ মে রাজ্যে সরকার বদল হয়, সরকার বদলের আগে টলিপাড়ার শুটিংয়ে বিভিন্ন কাজকর্ম চলত টেকনিশিয়নদের ফেডারেশন থেকে। তবে গত বছর ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যায়, ফেডারেশনের আগের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের কাজের মেয়াদ। রাজ্যে সরকার বদলের পরে ফেডারেশন থাকবে কিনা নাকি কাজ চলবে কনফেডারেশনের হাত ধরে, কীভাবে এগোবে টলিপাড়ার সমগ্র শুটিংয়ের পদ্ধতি, তাই নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়, টেকনিশিয়নদের তরফে কিছু ক্ষোভের কথা জানা যায়।

ইতিমধ্যেই প্রশাসন, একটি কমিটি তৈরি করে দিয়েছে টলিপাড়ার জটিলতা দেখভাল করার জন্য। যে কমিটিতে রয়েছেন টলিউডের অন্যান্য পরিচিত মুখের সঙ্গে ৪ বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারী। সোমবার টলিপাড়ার কর্মপদ্ধতি নির্ধারনের জন্য একটি বৈঠক ডাকা হয় নন্দনে, টলিপাড়ার কিছু প্রযোজক, সরকারি কমিটির সদস্যরা, চার বিধায়ক এবং টেকনিশিয়ানদের বিভিন্ন গিল্ডের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ে ঠিক হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি কমিটি থেকে বিভিন্ন গিল্ডের মনোনীত সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ হবে টলিপাড়ার।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে হিরণ বলেন, ”একটা ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হবে। এই কমিটিতে গিল্ডের সদস্য, টিভি এবং সিনেমার সঙ্গে যুক্ত প্রযোজকরা দুপক্ষই থাকবে। সেই ওয়ার্কিং কমিটি থেকে আমাদের যে সরকারি অ্যাডভাইসারি কমিটি রয়েছে, যেখানে আমরা চারজন বিধায়ক রয়েছি, আমাদের সঙ্গে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রয়েছেন, একটা সমন্বয় স্থাপন করে, কীভাবে কাজ এগোবে, তার পলিসি ঠিক করা হবে। এই ওয়ার্কিং কমিটিতে কোনও ভেন্ডার থাকবে না। অন্যদিকে, রুদ্রনীল জানান, ”বহু বছর পর প্রযোজক ও টেকনিশিয়নরা, এই নতুন সরকারের, তথ্য সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে, এই প্রথম তাঁদের নিজেদের কথা বলতে পারলেন। তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রক ও মুখ্যমন্ত্রী চান একটা কাজ করার পরিবেশ তৈরি হোক এবং কোনও চাপ তৈরি হবে না। অত্যন্ত আশার কথা, আজকে নন্দনে যে পর পর মিটিং হল, প্রযোজকদের একাংশকে ডাকা হয়েছিল, যাঁরা নিয়মিত কাজ করছেন, নিয়মিত টেকনিশিয়নরা এসেছিলেন। জটিলতার দ্রুত সমাধান হবে। বৈঠক খুবই পজিটিভ।” একই সুর রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারীর কণ্ঠে।

ফেডারেশন কী থাকছে?

টেকনিশিয়নদের দাবি, টলিপাড়ায় ফেডারেশন থাকবে আগের মতো। এই নিয়ে সোমনাথ কুণ্ডু বলেন, ”মিটিংয়ে কিছু ওয়েজেস নিয়ে কথা হয়েছে, কিছু নিয়ম পরিবর্তন হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিটা টেকনিশিয়ন যেন কাজ পায়। প্রযোজকরা যেন লগ্নী করতে পারেন। এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কয়েকটি প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে। সেটা বিবেচনা করা হবে। পুরোটা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ব্যান সংস্কৃতি বন্ধ করতে, একটা সংগঠন তৈরি হওয়ার প্রস্তাব হয়েছে। তবে একটা কথা বলতে পারি ফেডারেশন ছিল, আছে, থাকবে। তবে হয়তো কিছু পরিবর্তন হবে। আমরা আশাবাদী আমাদের সরকারের উপর।” এই মিটিংয়ে বেশ কিছু জটিলতা কাটলেও, আবারও বেশ কিছু বিষয় আলোচনা হবে। টেকনিশিয়নদের একটি ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি হওয়ার কথা, আগামী সপ্তাহের মধ্য়ে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

Follow Us