গৌরীদেবী চাননি উত্তমের মরদেহ স্পর্শ করুন সুপ্রিয়া? মহানায়কের মৃত্যুর ৪৬ বছর পর সত্য়িটা বলেই ফেললেন কন্যা সোমা

মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণের ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও, তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বাঙালির কৌতূহলে আজও এতটুকু ভাটা পড়েনি। বিশেষ করে উত্তম-সুপ্রিয়ার দীর্ঘ লিভ-ইন সম্পর্ক এবং উত্তমের স্ত্রী গৌরীদেবীর সঙ্গে সুপ্রিয়া দেবীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব নিয়ে সিনে মহলে চর্চা চিরন্তন। এবার সেই পুরনো দ্বন্দ্বই যেন নতুন করে প্রকাশ্যে এসে গেল এক ভাইরাল ভিডিয়োর মাধ্যমে। আর তা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন সুপ্রিয়া কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায়।

গৌরীদেবী চাননি উত্তমের মরদেহ স্পর্শ করুন সুপ্রিয়া? মহানায়কের মৃত্যুর ৪৬ বছর পর সত্য়িটা বলেই ফেললেন কন্যা সোমা

|

Jul 26, 2026 | 9:00 AM

মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণের ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও, তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বাঙালির কৌতূহলে আজও এতটুকু ভাটা পড়েনি। বিশেষ করে উত্তম-সুপ্রিয়ার দীর্ঘ লিভ-ইন সম্পর্ক এবং উত্তমের স্ত্রী গৌরীদেবীর সঙ্গে সুপ্রিয়া দেবীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব নিয়ে সিনে মহলে চর্চা চিরন্তন। এবার সেই পুরনো দ্বন্দ্বই যেন নতুন করে প্রকাশ্যে এসে গেল এক ভাইরাল ভিডিয়োর মাধ্যমে। আর তা নিয়েই কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন সুপ্রিয়া কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায়।

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় সুপ্রিয়া কন্যার নজরে এসেছে একটি ভিডিয়ো। যে ভিডিয়ো থেকে জানতে পেরেছেন, এমন এক তথ্য যা কিনা তাঁর কাছে একেবারেই সঠিক নয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, যে উত্তমের স্ত্রী গৌরীদেবীর নিষেধের কারণেই নাকি সুপ্রিয়া দেবী, উত্তমের মরদেহ দেখতে যেতে পারেননি! ভিডিয়োতে করা দাবিকে একেবারে নসাৎ করে দিয়ে সোমা চট্টোপাধ্য়ায় ফেসবুকে একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে জানান, “ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখলাম, যেখানে উত্তম কুমারের এক আত্মীয় দাবি করেছেন যে আমার মা সুপ্রিয়া দেবীকে সেদিন গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এই তথ্যে আমার ঘোর আপত্তি রয়েছে। কারণ, সেদিন মায়ের পাশেই ছিলাম আমি। আসল সত্যিটা হল, মা-কে কেউ আটকায়নি, বরং মা নিজেই সেদিন ওই বাড়িতে যাননি।”

কেন শেষদর্শনে যাননি সুপ্রিয়া দেবী?

মায়ের না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সোমা জানান, সেদিন ওই শোকস্তব্ধ পরিবেশেও নানা ধরনের রাজনীতি ও জটিলতা কাজ করছিল। তাঁর কথায়, “সেদিন ওখানে অনেক ইস্যু ছিল, অনেক রকম রাজনীতি চলছিল। মহানায়কের মৃত্যুর মতো একটি স্পর্শকাতর মুহূর্তে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ঝামেলা এড়াতেই মা সচেতনভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁকে কেউ বাধা দেয়নি, এটা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল।”

মায়ের বিরুদ্ধে ওঠা ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ’ হওয়ার অভিযোগ শুনে স্বভাবতই মর্মাহত সোমা। তিনি মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমার মা উত্তম কুমারের সঙ্গে ২০ বছর লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। ওঁর দেখাশোনা থেকে শুরু করে ভালো রাখার সব দায়িত্ব মা নিজের হাতে পালন করেছেন। উত্তম কুমার মায়ের হাতের রান্না খেতে ভালোবাসতেন বলে, এই মানুষটা নিজের হাতে দিনের পর দিন রান্নাঘরে সময় কাটিয়েছেন। এমনকী, মহানায়কের জন্য মা নিজের কেরিয়ার পর্যন্ত আত্মত্যাগ করেছিলেন। আমি নিজে চোখে মায়ের এই ত্যাগ দেখেছি। তাই আজ যখন কেউ বলে যে মাকে শেষদর্শনে যেতে দেওয়া হয়নি বা তিনি দায়িত্ব পালন করেননি, তখন ভীষণ কষ্ট হয়।”

শেষে সোমা চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যিনি এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন তিনি হয়তো তখন অনেকটাই ছোট ছিলেন, তাই আসল ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। কেবলমাত্র সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানানোর তাগিদেই ৪৬ বছর পর এই প্রসঙ্গে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন তিনি।

ভিডিয়ো সৌজন্যে- চক্র প্রোডাকশন

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় উত্তম কুমারের নাতনি নবমিতার একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর সুপ্রিয়া দেবীকে তাঁর মরদেহের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। নবমিতার কথায়, “দিদা (উত্তমের স্ত্রী গৌরীদেবী) ভেবেছিলেন, যাঁর ওপর তিনি স্বামীর ভালো থাকার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই সুপ্রিয়া দেবী তাঁকে সুস্থ রাখতে পারলেন না। দিদা চেয়েছিলেন, উত্তম কুমার ওখানে গিয়ে একটু ভালো থাকুন, নিজের মতো করে সময় কাটান। কিন্তু সুপ্রিয়া দেবী সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এই রাগের বশেই নাকি গৌরীদেবী তাঁকে শেষদর্শনে আসতে দেননি।” তবে এই ভিডিয়ো ভাইরাল হলেও, সুপ্রিয়া কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায় নবমিতা নাম বা নবমিতার এই সাক্ষাৎকারের ভিডিয়োর কথা কিন্তু উল্লেখ করেননি তাঁর বক্তব্যে। নেটিজেনরা মনে করছেন, হয়তো উত্তমের নাতনির এই মন্তব্যকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন সুপ্রিয়া কন্যা।

প্রসঙ্গত, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে মহানায়ক উত্তম কুমার এবং সুপ্রিয়া দেবীর রসায়ন কেবল রুপোলি পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছিল বাস্তব জীবনেরও অন্যতম চর্চিত ও গভীর এক সম্পর্ক। তৎকালীন সমাজের নানা ট্যাবু এবং সামাজিক নিয়মনীতিকে পেছনে ফেলে ১৯৬০-এর দশকে তাঁদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়।

‘বসু পরিবার’ (১৯৫২) ছবির মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ শুরু করলেও, যতদিন এগোয় তাঁদের রুপোলি পর্দার জুটি থেকে বাস্তবের প্রেমের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। পরবর্তীতে ভবানীপুরের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবী দীর্ঘ দুই দশক ধরে একত্রে বসবাস করেন। সুপ্রিয়াকে ভালোবেসে বেণু বলে ডাকতেন মহানায়ক।

উত্তম কুমারের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবন—উভয়ক্ষেত্রেই সুপ্রিয়া দেবী ছিলেন এক বিশাল স্তম্ভ। মহানায়কের পছন্দ-অপছন্দ, তাঁর রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পরিচর্যার সিংহভাগ দায়িত্বই সুপ্রিয়া দেবী নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে অনেক সমালোচনার মুখ পড়তে হলেও, সুপ্রিয়া দেবী নিজের কেরিয়ারকে কিছুটা পেছনে ফেলে মহানায়কের পাশে ছায়ার মতো থেকেছেন।

উত্তম ও সুপ্রিয়া ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, উত্তম-বেণুর সম্পর্ক ২০ বছরের সম্পর্কটি কেবল প্রেমেরই ছিল না, বরং তা ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব এবং গভীর আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ।

 

Follow Us