কেমন প্রেমিক ছিলেন উত্তম? সত্যিটা বলেই ফেলেছিলেন সুপ্রিয়া

কথা বলার রাজকীয় স্টাইল আর চোখের চাউনিতে আজও বুঁদ হয়ে থাকেন রূপসীরা। সাদা-কালো পর্দার সেই চিরন্তন রোমান্টিক হিরোকে নিয়ে আধুনিকাদের মনে ফ্যান্টাসির শেষ ছিল না। মনে মনে প্রতিটি নারীই যেন তাঁর মধ্যে খুঁজতেন নিজের স্বপ্নের পুরুষকে।

কেমন প্রেমিক ছিলেন উত্তম? সত্যিটা বলেই ফেলেছিলেন সুপ্রিয়া

|

Jul 02, 2026 | 7:29 PM

বাঙালির নস্টালজিয়ার অন্য নাম ‘উত্তম কুমার’। তিনি শুধু এক জন অভিনেতা নন, তিনি এক মায়াবী জাদুকর। বহু দশক পার হয়ে গেলেও আজও বাঙালির ড্রয়িংরুমের আড্ডায় সুপুরুষের সংজ্ঞা দিতে গেলে সবার আগে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। মহানায়কের সেই ভুবনভোলানো হাসি, কথা বলার রাজকীয় স্টাইল আর চোখের চাউনিতে আজও বুঁদ হয়ে থাকেন রূপসীরা। সাদা-কালো পর্দার সেই চিরন্তন রোমান্টিক হিরোকে নিয়ে আধুনিকাদের মনে ফ্যান্টাসির শেষ ছিল না। মনে মনে প্রতিটি নারীই যেন তাঁর মধ্যে খুঁজতেন নিজের স্বপ্নের পুরুষকে। কিন্তু রূপোলি পর্দার এই ম্যাজিক ম্যান কি বাস্তবেও তেমনই প্রেমিক ছিলেন? তাঁর ঠিক কোন সম্মোহনে মাতাল হতো নারীহৃদয়?

এই প্রশ্ন বার বার তাঁর দিকে ধেয়ে গেলেও, মহানায়ক নিজে এর উত্তর খুঁজতেন। এমনকি এই রহস্যের জট খুলতে তিনি এক দিন শরণাপন্ন হয়েছিলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ, প্রিয় ‘বেণু’ অর্থাৎ সুপ্রিয়া চৌধুরীর। সুপ্রিয়া দেবীকে তিনি সোজা প্রশ্ন করে বসেন— “হ্যাঁ গো বেণু, মেয়েরা আমাকে এত ভালোবাসে কেন বলো তো?”

ঘটনাটি সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ের। বেশ কিছু ছবির টানা শিডিউল শেষ করে ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে তখন কিছুটা অবসরে মহানায়ক। তবে শুটিং না থাকলেও তাঁর বাড়িতে সাংবাদিকদের আনাগোনা লেগেই থাকত। এমনই এক আলসে দুপুরে এক সাংবাদিকের সামনেই সুপ্রিয়া দেবীর কাছে এই কৌতুহল প্রকাশ করেন উত্তম কুমার।

হঠাৎ এমন প্রশ্নে প্রথমে কিছুটা চমকে গেলেও, পরক্ষণেই হেসে ফেলেছিলেন সুপ্রিয়া চৌধুরী। এরপর মহানায়কের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে পরম আদরে বলেছিলেন, “কারণ তুমি ডেঞ্জারাসলি হ্যান্ডসাম (বিপজ্জনক রকমের সুপুরুষ)। আসলে মেয়েরা একদিকে যেমন একজন ভালোমানুষ ও নির্ভরযোগ্য স্বামী চায়, অন্যদিকে তেমনই একজন বিপজ্জনক সুন্দর প্রেমিকও খোঁজে। তোমার মধ্যে এই দুটোরই এক অদ্ভুত মেলবন্ধন রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই তো আমি নিজেও তোমার প্রেমে আমার সর্বস্ব মেলে ধরেছি!”

সুপ্রিয়া দেবীর মুখে এমন অকপট ও জাদুকরী ব্যাখ্যা শুনে সেদিন আর হাসি থামাতে পারেননি উত্তম কুমার। উপস্থিত সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে কৌতুকের সুরে বলেছিলেন, “তাহলে তো দেখছেন, এসবে আমার কোনও দোষ নেই! আমি উত্তম, আমি তো এরকমই হব!” বাস্তব জীবনের সেই ক্ষণিকের কথোপকথনই প্রমাণ করে দেয়, পর্দায় তিনি যতই রোমান্টিক হোন না কেন, ব্যক্তি উত্তম কুমারও নারীদের মনস্তত্ত্ব বুঝতেন অনন্য এক মায়ায়। আর সেই মায়ার টান আজও অমলিন।

Follow Us