
ফের শোকের ছায়া টলিপাড়ায়। প্রয়াত বিশিষ্ট অভিনেতা ও প্রবীণ নাট্যকার পঙ্কজ মুন্সী। বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব।
তাঁর জীবনাবসানের খবর নিশ্চিত করে পরিচালক সৌরভ পালোধি জানান, সাধারণ মানুষ ও গুণমুগ্ধদের শেষ শ্রদ্ধার জন্য রবিবার দুপুর ৩টে ৩০ মিনিট নাগাদ তাঁর মরদেহ অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে নিয়ে আসা হয়েছিল।
বাংলা থিয়েটার জগতে পঙ্কজ মুন্সীর অবদান অনস্বীকার্য। মূলধারার থিয়েটারের পাশাপাশি স্বাধীন ও বিকল্প ধারার নাট্য আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রখ্যাত নাট্যকার বাদল সরকারের ‘অঙ্গনমঞ্চ’ ও মুক্তমঞ্চের ধারায় বিশ্বাসী পঙ্কজ বাবু বিকল্প থিয়েটারের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তাঁর স্ত্রী তপতী মুন্সীও নাটক ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁকেও দর্শক বিভিন্ন নাট, ছবি ও ধারাবাহিকে দেখেছেন।
কেবল মঞ্চই নয়, সেলুলয়েডের রুপোলি পর্দাতেও তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে গিয়েছেন। অশোক বিশ্বনাথন পরিচালিত বহুল প্রশংসিত ডকুমেন্টারি ‘বাদল সরকার অ্যান্ড দ্য অল্টারনেটিভ থিয়েটার’-এ তাঁর পারফরম্যান্স ও বিশ্লেষণাত্মক উপস্থাপন বিশেষ প্রশংসিত হয়েছিল। এ ছাড়া ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ এবং ‘শজারুর কাঁটা’-র মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রেও তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকমনে জায়গা করে নেয়। তাঁর প্রয়াণে নাট্য এবং চলচ্চিত্র জগতে তৈরি হল এক অপূরণীয় শূন্যতা।