
সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম বিষাক্ততা এবং লাগাতার আক্রমণের কারণে ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেতা বিক্রান্ত মাসে। সম্প্রতি ‘মুসাফির ক্যাফে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত এই অভিনেতা শেখর সুমনের একটি টক শো-তে হাজির হয়ে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁর আলোচিত ছবি ‘দ্য সবরমতী রিপোর্ট’ মুক্তির পর কীভাবে তাঁকে গালাগাল, খোলা হুমকি এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে, সেই সময়ে তাঁর ছেলে মাত্র ছয় মাসের শিশু হওয়ায় পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল, তাও জানান বিক্রান্ত।
সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলিং ও আক্রমণের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিক্রান্ত বলেন, “আমি ‘দ্য সবরমতী রিপোর্ট’ নামে একটি সিনেমা করেছিলাম এবং ছবিটিকে নিয়ে আমি আজও অত্যন্ত গর্বিত। গোধরা ট্রেন দুর্ঘটনা এবং সবরমতী এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক আগুনের ঘটনার সত্যতা নিয়ে ছবিটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ছবিটি আসার পরেই একদল মানুষ একে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করে। আমাকে অজস্র গালাগাল শুনতে হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং গাড়ির নম্বর নেটদুনিয়ায় ফাঁস করে দেওয়া হয়। এমনকী, প্রকাশ্যে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল।”
সেই সময়ে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আশঙ্কার কথা স্মরণ করে অভিনেতা যোগ করেন, “সেই পরিস্থিতিতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, কারণ তখন আমার সন্তান একেবারেই ছোট— বয়স মাত্র ছয় মাস। এই ঘটনার পর কতটা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে আমায় যেতে হয়েছিল, তা আমি সংবাদমাধ্যমের কাছেও লুকিয়ে রাখিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি একটা কথা উপলব্ধি করেছি— এরা সবাই আসলে ভীরু ও কাপুরুষ। তাই এখন কে আমার সম্পর্কে কী বলছে বা রটাচ্ছে, তাতে আমার আর কিচ্ছু যায় আসে না। আমার একমাত্র অগ্রাধিকার আমার নিজের পরিবার ও কাছের মানুষজন, কেবল তাঁদের প্রতিই আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে।”