
রবিবারের জমকালো সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’ সিজন ৩। নতুন সিজন শুরুর পর থেকেই রিয়েলিটি শোটি নিয়ে নেটপাড়ায় চর্চা তুঙ্গে। আর তার সঙ্গেই ফের নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে শো-এর সবচেয়ে রহস্যময় বিষয়টি— মেঘের আড়াল থেকে ভেসে আসা সেই গুরুগম্ভীর ‘বাজখাই’ কণ্ঠস্বরটি আসলে কার? প্রতি প্রতিযোগীকে আদেশ-নির্দেশ দেওয়া এবং সুপ্রভাত থেকে শুভরাত্রি জানানো ‘বিগ বস’-এর সেই ব্যারিটোন ভয়েসের পেছনের চেহারাটি এতদিন অজানা থাকলেও, এবার নিজেই সেই গোপন রহস্য ফাঁস করলেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রি এবং দর্শকদের মধ্যে যে জল্পনা চলছিল, তাতে পূর্ণচ্ছেদ টেনে সোশাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে সোহন স্বীকার করেছেন, তিনিই ছিলেন ‘বিগ বস বাংলা’র প্রথম ও দ্বিতীয় সিজনের (২০১৩ এবং ২০১৬) ‘বিগ বস’।
তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “খুব ঘনিষ্ঠ বৃত্ত ছাড়া হাজার চাপেও এতদিন কথাটা সরাসরি স্বীকার করিনি। তবে প্রথম ২টি সিজনে যারা প্রতিযোগী ছিলেন, তাঁরা শো-এর শেষে আমায় দেখে ফেলার পর ইন্ডাস্ট্রিজুড়ে কথা চালাচালি হওয়া খুব অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। অনেকেই এতদিন আন্দাজ করেছিলেন— আমিই ছিলাম ‘বিগ বস বাংলা’র নামভূমিকার অভিনেতা। আজ সরাসরি জানিয়ে দিলাম।”
তবে আগের দুই মরশুমে নামভূমিকায় অভিনয় করলেও, চলতি সিজন ৩-এ তাঁকে আর ‘বিগ বস’-এর কণ্ঠে শোনা যাবে না। সে কথা পরিষ্কার করে তিনি জানিয়েছেন, মাঝের দীর্ঘ এক দশকের ব্যবধানে তাঁর কাজের সংখ্যা, পারিশ্রমিকের দাবি ও পারিবারিক পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। প্রযোজক সংস্থা তাঁকে নেওয়ার আন্তরিক চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সমস্ত কিছু খাপ খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে নিজের খুব প্রিয় একটি কাজকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‘না’ বলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
চলতি মরশুমে অন্য কোনও শিল্পী এই চরিত্রে বাচিক অভিনয় করছেন জানিয়ে নতুন দল ও শো-এর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন সোহন। সেই সঙ্গে নিজের পরিচয় প্রকাশ্যে এনে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা দর্শকের অগণিত প্রশ্নেরও অবসান ঘটালেন প্রথম দুই সিজনের এই জনপ্রিয় ‘বিগ বস’। তাহলে এবার বিগ বাংলায় শোনা যাচ্ছে কার কণ্ঠ? চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আপাতত এই বিষয়ে একেবারেই মুখ খুলতে চাননি। গোটা বিষয়টা রেখেছেন আড়ালেই।