
একসময় ২১ জুলাই মানেই ছিল ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের মঞ্চে রাজনীতি আর রূপোলি পর্দার মেলবন্ধন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি বরাবরই উজ্জ্বল উপস্থিতিতে নজর কাড়তেন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজকরা। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর মমতার ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউজ থেকে যেমন জায়গা বদল করে হয়েছে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে। তেমনই এবারের ২১ জুলাইয়ের চিত্রটা যেন একলহমে বদলে গেল। শহিদ দিবসের বিরাট মঞ্চে এবার সেভাবে চোখে পড়ল না গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের পরিচিত মুখগুলোকে। হঠাৎ কেন এই চিত্রবদল? কেন ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে দেখা গেল না টলিউডের তারকাদের? এই প্রসঙ্গে TV9 বাংলার কাছে মুখ খুললেন মমতা ঘনিষ্ঠ তিন টলি সেলেব।
আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করে অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ আগে দলীয় কমিটি থেকে বলা হতো বলে আমরা যেতাম। আমরা সবাই নন্দনে একত্রিত হতাম, সেখান থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হত। কিন্তু এবার তো বিশেষ করে আর্টিস্টদের এরকম কিছু বলা হয়নি। আমার কাছে অন্তত কোনও খবর আসেনি, বাকিদের কথা বলতে পারব না। তাই যাইনি।” একই সুর শোনা গেল অভিনেতা ভিভান ঘোষের গলায়। তিনি জানান, “একুশের মঞ্চ থেকে এই বছর আমাদের কাছে কোনও ডাক আসেনি। প্রতি বছর একটা আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ পেতাম। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দপ্তর থেকে সেই নিমন্ত্রণ পাঠানো হত এবং সেই অনুযায়ী আমরা সবাই উপস্থিত হতাম। তবে এটুকু বলব, তৃণমূল তো একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। যদি নিমন্ত্রণ পেতাম যেতাম, অবশ্যই যেতাম।”
অন্যদিকে, ব্যতিক্রমী সুর শোনা গেল অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়ের কথায়। রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলেও মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। মাঝখানে দুটো কর্মসূচিতে আমি থাকতে পারিনি—একটাতে অসুস্থ ছিলাম, অন্যটিতে কলকাতায় ছিলাম না। তাই মিছিলে বা অন্য একটি সভায় যেতে পারিনি। তবে দিদির প্রথম সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম।” দল বিপদে বা অসুবিধায় থাকলে আমন্ত্রণ ছাড়া যাওয়া উচিত কিনা, সেই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সুভদ্রা বলেন, “বিপদের দিনে যখন কেউ অসুবিধায় থাকে, তখন আবার কিসের নিমন্ত্রণ? আমার মনে হয় সেই কঠিন সময়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ানোটাই আসল দায়িত্ব।”