
বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি আবেদন ফিরিয়ে নিলেও বলিউড তারকা গোবিন্দা ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজাকে ঘিরে জল্পনার আগুন কিছুতেই নিভছে না। সম্প্রতি নেটপাড়ায় সুনীতার বেশ কিছু মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও গরম হয়ে ওঠে, যেখানে গোবিন্দার নাম জড়িয়েছে পরকীয়া থেকে শুরু করে ‘সুগার ড্যাডি’ হওয়ার মতো নানা চর্চায়। স্ত্রীর এসব বক্তব্যের জবাবে নীরবতা ভেঙেছেন গোবিন্দা নিজেও। তবে এই আবহেই নতুন করে ঘি ঢেলেছে অভিনেতার বহু পুরোনো একটি সাক্ষাৎকার।
সোশাল মিডিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে নয়ের দশকের এক প্রথম সারির বিনোদন ম্যাগাজিনে দেওয়া গোবিন্দার এক সাক্ষাৎকার। সেখানে নিজের কোষ্ঠী বা জন্মকুণ্ডলীর প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা দাবি করেছিলেন, তাঁর ভাগ্যে নাকি দুটি বিয়ের যোগ রয়েছে!
বিতর্কিত সেই সাক্ষাৎকারে গোবিন্দা বলেছিলেন, “কে বলতে পারে ভবিষ্যতে আমি অন্য কারও প্রেমে পড়ব না? এমন হতেই পারে যে যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াব, তাকে আমি বিয়েও করলাম। তবে এর জন্য সুনীতাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে আমি দ্বিধাহীনভাবে সিদ্ধান্তটি নিতে পারি। কারণ আমার কুণ্ডলীতে স্পষ্ট লেখা আছে যে আমার দুটি বিয়ে হবে।” শুধু তাই নয়, তৎকালীন সহ-অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও প্রয়াত দিব্যা ভারতীর প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণের কথাও স্বীকার করেছিলেন ‘হিরো নম্বর ১’ খ্যাত এই তারকা। একই সঙ্গে তিনি মেনে নিয়েছিলেন, এসব কথা জানতে পারলে সুনীতার মন ভাঙতেই পারে।
গোবিন্দার এই পুরনো মন্তব্যটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পেছনে বড় কারণ সম্প্রতি বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে সুনীতা ও তাঁদের ছেলে যশবর্ধনের উপস্থিতি। আদালত প্রাঙ্গণে দুজনকে দেখতে পেয়ে নেটপাড়া ধরে নিয়েছিল যে দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কের হয়তো ইতি ঘটতে চলেছে। তবে পরে গোবিন্দার ম্যানেজার বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, দূরত্ব মেটাতে ২০২৪ সালে দায়ের করা বিচ্ছেদের আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতেই পরিবার নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন সুনীতা।
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে কেরিয়ারের সুবর্ণ সময়ে অত্যন্ত গোপনে সুনীতার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন গোবিন্দা। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে প্রথম কন্যা সন্তান টিনার জন্মের পরেই নিজেদের দাম্পত্যের কথা বিশ্ববাসীকে জানান তাঁরা। ১৯৯৭ সালে তাঁদের কোল আলো করে আসে ছেলে যশবর্ধন। তবে দীর্ঘ চার দশকের দাম্পত্য পেরিয়ে এসেও অতীত সাক্ষাৎকার আর বর্তমানের টানাপোড়েনে ফের তোলপাড় টলিপাড়া থেকে বি-টাউন।