
কলকাতা: স্থলভাগে কাঁটাতারের বেড়া, ওয়াচটাওয়ার কিংবা সীমান্ত চৌকি দিয়ে নজরদারি করা সম্ভব হলেও, নদী-খাঁড়ি, চর ও জলাভূমিতে সেই ব্যবস্থা সবসময় কার্যকর নয়। আর তাই সুন্দরবনের মতো জায়গায় সীমান্তরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে ‘Floating Border Out Post’ বা ভাসমান সীমান্ত চৌকি। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে রয়েছে Border Security Force (BSF)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নদী-অধ্যুষিত সীমান্তে জলযান, স্পিডবোট এবং Floating BOP ব্যবহার করে নিয়মিত নজরদারি ও সীমান্ত-প্রহরা চালানো হয়।
রায়মঙ্গল নদী এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন অংশ মিলিয়ে মোট ৭টি ভাসমান বর্ডার আউটপোষ্ট অতন্দ্র প্রহরীর হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরও ১টি ভাসমান বর্ডার আউটপোস্ট রায়মঙ্গল নদীতে সর্বদা নজরদারি করে চলেছে।
কী এই Floating BOP বা ভাসমান বর্ডার আউট পোস্ট?
BOP মূলত স্থলভাগে থাকা BSF-এর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সীমান্ত চৌকি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্টে BOP-কে BSF-এর প্রধান কর্মস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি BOP-এর নিজস্ব দায়িত্বের এলাকা থাকে। সেখানে থাকা কর্মীরা সীমান্ত নজরদারি, নিরাপত্তা ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন।
কীভাবে কাজ করে?
Floating BOP-এর প্রধান উদ্দেশ্য হল নদীপথে নিরবচ্ছিন্ন সীমান্ত নজরদারি ও উপস্থিতি বজায় রাখা। BSF-এর Water Wing-এর জলযান ও স্পিডবোটের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ব্যবস্থা কাজ করে।
তবে শুধু এই বিওপি নয়, একই সঙ্গে হাতে-ধরা থার্মাল ইমেজার, নাইট-ভিশন সরঞ্জাম, টুইন টেলিস্কোপ এবং UAV-এর মতো প্রযুক্তিও সীমান্ত নজরদারি নিয়েও চলে নজরদারি।
সুন্দরবনে কেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পশ্চিমবঙ্গ অংশের একটি বড় অংশ নদী, খাঁড়ি, চর ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অঞ্চল দিয়ে গঠিত। সেখানে নজরদারি রাখা খুবই কঠীন। আর তাই পাচারকরিদের রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেয় BSF।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। পশ্চিমবঙ্গের অংশই প্রায় ২,২১৬.৭ কিলোমিটার। সীমান্তের ভূপ্রকৃতির মধ্যে সমতলভূমির পাশাপাশি নদী, পাহাড় ও জঙ্গলও রয়েছে। এই কারণেই নদী ও জলাভূমি এলাকায় স্থলভিত্তিক নজরদারির পাশাপাশি জলপথে নিরাপত্তা কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।