
নয়াদিল্লি: ফের চলন্ত বাসে গণধর্ষণ দিল্লিতে। ফাঁকা বাসে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় আটকে পড়ে ওই বাসে লিফট চেয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই কিশোরী। প্রায় ৪৭ কিমি রাস্তায় ঘুরিয়ে দিল্লির রিং রোডে নির্যাতিতাতে নামিয়ে পালায় অভিযুক্ত। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদপত্র ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের মইনপুরির বাসিন্দা ওই কিশোরী গত ৪ অগস্ট পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর নয়ডায় এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুল করে নয়ডার পাড়ি চক এলাকায় বাস থেকে নেমে যায়। তখন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। ভিজে একাকার হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যাও নেমে এসেছিল। সেই সময় সাহায্যের আশায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি স্লিপার বাসকে থামায় সে। বাসটি ফাঁকা ছিল। চালকও সঙ্গে সঙ্গে বাসটি থামায়।
অভিযোগ, বাসচালক এবং কন্ডাক্টর ওই কিশোরীকে মিথ্যা কথা বলে। তারা জানায়, বাসটি নয়ডা সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাচ্ছে। এরপর তাকে বাসে উঠতে দেওয়া হয়। পুলিশের বক্তব্য, বাস চলতে শুরু করার পরই কন্ডাক্টর ওই কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে শুরু করে। পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে কিশোরী অভিযোগ করেছে, বাসচালক এবং কন্ডাক্টর দু’জনেই তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, নয়ডা থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে দিল্লির কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত বাসটি যায়। গভীর রাতে রিং রোডের কাছে ওই কিশোরীকে নামিয়ে দিয়ে দুই অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর আতঙ্কিত ও অসহায় অবস্থায় কাশ্মীরি গেট থানায় পৌঁছে ঘটনার কথা জানায় কিশোরী। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তিমারপুরের একটি পার্কিং লট থেকে বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনায় ব্যবহৃত স্লিপার বাসটিকেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই দিন এর আগে বাসটি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। মেরামতির জন্য সেটিকে সুরজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর বাসচালক ও কন্ডাক্টর সেটিকে তিমারপুরে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময়ই পাড়ি চক থেকে ওই কিশোরীকে বাসে তোলা হয় বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য। পুলিশ জানিয়েছে, যাতে বাইরে থেকে কিছু বোঝা না যায়, সেজন্য বাসের ভিতরের সব পর্দা টেনে দিয়েছিল অভিযুক্তরা।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ২২ বছরের নির্ভয়া। শুধু গণধর্ষণ নয়, তাঁর যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হার মানেন নির্ভয়া। সেই দিল্লিতেই এবার চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হল কিশোরী।