
নয়া দিল্লি: খাবারের প্যাকেটে লেখা থাকে এক, আর উপাদান হিসেবে থাকে অন্য কিছু। যে বিজ্ঞাপন দিয়ে খাবার বিক্রি করা হয়, আদতে কি গ্রাহকরা তা পেয়ে থাকেন? এই প্রশ্ন সামনে আসে মাঝেমধ্যেই। এবার প্রশ্ন উঠল বিস্কুট নিয়ে। গম বা আটার বিস্কুট বলে আদতে ময়দা খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে! এমন অভিযোগ সামনে আসার পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ।
সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়োতে কিছু খাবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এক ইনফ্লুয়েন্সার। healthy (স্বাস্থ্যকর), natural (প্রাকৃতিক) ও organic (রাসায়নিক-মুক্ত) বলে কিছু কিছু খাবার বিক্রি করা হয়, যা আদতে স্বাস্থ্যকর নয়। খাবারের প্যাকেটের লেবেলে ভুল বোঝানোর অভিযোগ ওঠে। সেখানেই হোল হুইট বা আটার তৈরি বিস্কুটের কথা উল্লেখ করা হয়। সেই বিষয়টা সামনে আসার পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি।
সিসিপিএ-র পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ওই মেরি বিস্কুটে মাত্র ১৯.৫ শতাংশ আটা রয়েছে আর ৫২ শতাংশ ময়দা। বিস্কুটটির মোড়কের সামনে বড় করে লেখা থাকে ‘Whole Wheat Marie Biscuits’। গমের ছবিও দেওয়া আছে। কিন্তু প্যাকেটের পিছনে যেখানে ছোট হরফে উপাদানের কথা লেখা আছে, সেখানে মূল উপাদান হিসেবে দেখা যাচ্ছে ময়দাই আছে বেশি।
এই ধরনের ছোট ডিসক্লেমার গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেছে CCPA। কমিশনার নিধি খারে এবং কমিশনার অনুপম মিশ্র তাঁদের নির্দেশে জানিয়েছেন, প্যাকেটের গায়ে ছোট অক্ষরে কোনও ডিসক্লেমার লিখে বড় বিভ্রান্তি ঢাকা যায় না। নীল ব্যাকগ্রাউন্ডে অত্যন্ত ছোট সাদা হরফে লেখা শর্তাবলী। সেটা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে পড়া কঠিন।
এই ধরনের প্যাকেজিং ক্রেতাদের আসল তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত করে এবং ভুল সিদ্ধান্তে চালিত করে। এটি এক ধরনের ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বা অসৎ পদ্ধতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিস্কুট কোম্পানিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এই ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই সংস্তাকে।