
বেলগাভি: কর্নাটকের বেলগাভিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বার্ষিক অখিল ভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক রবিবার শেষ হল। তিনদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট ২২৬ জন কর্মী। ৩ দিনের বৈঠকে নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে যেমন দেশের জনসংখ্যা ইস্যু রয়েছে, তেমনই রাম মন্দিরে দানবাক্সে বেনিয়মের তদন্তের বিষয়টিও উঠে আসে।
বৈঠক শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মার্চের পর সংঘের বিভিন্ন স্তরে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ বছর সারা দেশে মোট ৮৩টি সংঘ শিক্ষা বর্গ এবং ১২টি কর্মী বিকাশ বর্গ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮,৮৪২ জন স্বয়ংসেবক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলির মধ্যে ছিল দৈনিক শাখা পরিচালনা, সংঘের কর্মপদ্ধতি, গ্রামোন্নয়ন, কুটুম্ব প্রবোধন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ।
বৈঠকে শাখা স্তরে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সর্বাধিক সংখ্যক নতুন শাখা বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি সংঘের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কর্মসূচিগুলির মূল্যায়ন এবং বাকি কর্মসূচির রূপরেখা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। শতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাঁরা সংঘের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের সমাজসেবা এবং ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচিতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ সালের জন্য সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের দেশব্যাপী সফরসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। আরএসএস-র অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, জনগণনা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সন্ত শিরোমণি রবিদাস মহারাজের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও বৈঠকে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনায় অনিয়মের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আরএসএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের আবেদনের ভিত্তিতে যে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তা দ্রুত সিদ্ধান্তমূলক পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে তাদের আশা। একই সঙ্গে ট্রাস্টের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে, যা রাম মন্দিরের প্রতি কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় আঘাত হানতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।