
তিহাড় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। শনিবার সকালে হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। আম আদমি পার্টির কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা তুঙ্গে। তাঁকে ১ জুন পর্যন্ত অন্তর্বতী জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
হরিয়ানা, রাজস্থান, কর্নাটক, দিল্লি, বিহার, বংলায় আসন কমছে বিজেপির, দাবি কেজরীবালের। তিনি বলেন, ১২০-৩০ এর বেশি আসন পাবে না বিজেপি।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা প্রশ্ন করে, ইন্ডিয়া জোটের প্রধান মন্ত্রী কে হবে। আমি প্রশ্ন করছি, বিজেপির প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? সামনের বছর মোদীর ৭৫ বছর বয়স হয়ে যাবে। বিজেপিতে কারও ৭৫ বছর বয়স হয়ে গেলে তিনি অবসর নেন। আডবাণী, যোশী, সুমিত্রা মহাজন, যশবন্ত সিনহা সবাই অবসর নিয়েছেন। তাহলে আগামী বছর ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীও অবসর নেবেন, তাহলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী?’ কেজরীবালের দাবি, মোদী নিজের জন্য নয়, অমিত শাহের জন্য ভোট চাইছেন। অমিত শাহকেই প্রধানমন্ত্রী করা হবে
আমাদের দেশকে বাঁচান, ১৪০ কোটি মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইছি। দেশকে বাঁচানোর জন্য গোটা দেশে ঘুরব। সুপ্রিম কোর্ট আমাকে ২১ দিন সময় দিয়েছে। এক একটি দিন ২৪ ঘণ্টার হয়, আমি ৩৬ ঘণ্টা কাজ করব। আমার পুরো জীবন দেশের জন্য উৎসর্গ করব: কেজরীবাল।
কেজরীবালকে জেলে পাঠিয়ে মোদী প্রমাণ করেছেন যে সবাইকে জেলে পাঠানো সম্ভব। দেশ জুড়ে এক ভয়ঙ্কর মিশন চালু করেছে। মিশনের নাম ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান লিডার’। দেশের সব নেতাকে শেষ করতে চাইছে। মনীশ সিসোদিয়া, কেজরীবাল থেকে শুরু করে মমতার মন্ত্রীদের জেলে পাঠানো হয়েছে। লিখে রাখুন, এবার ভোটে জিতলে জেলে থাকবেন মমতা, জেলে থাকবেন তেজস্বী, জেলে থাকবেন স্ট্যালিন, জেলে থাকবেন উদ্ধব, পিনারাই বিজয়ন: কেজরীবাল।
৭৫ বছরে আর কোনও দলের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করা হয়নি। দুর্নীতির সঙ্গে যদি লড়াই করতে হয়, তাহলে কেজরীবালের থেকে শিখুন। সরকার গঠনের পর এক মন্ত্রীর অডিয়ো এসেছিল। কাউকে কিছু না বলে সিবিআই-কে তদন্ত করতে বলেছিলাম। জেলে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আর আপনারা সব চোরকে আশ্রয় দিচ্ছেন: কেজরীবাল।
যাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন, তাঁরা বলেন, মোদী অন্তত ১০ মিনিট আপ ও কেজরীবাল সম্পর্কে কথা বলেন। উনি চান সবার আগে এই দলকে শেষ করতে হবে। আপনি ভাল কাজ করুন না। আপনি যদি কাজ করেন, তাহলে কিছু বলার নেই। কাজ না করলে জনতা মেনে নেবে না: কেজরীবাল।
আমাদের দল ছোট একটি দল, ১০ বছরের পুরনো। আমাদের দলকে শেষ করতে প্রধানমন্ত্রী সবরকম চেষ্টা করেছেন। দলের চার শীর্ষনেতাকে একসঙ্গে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বড় বড় দলের ক্ষেত্রেও চার নেতা জেলে চলে গেলে দলটা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এই দলকে যত শেষ করার চেষ্টা হবে, ততই এটা বিস্তারলাভ করবে: কেজরীবাল।
কর্মী-সমর্থকদের সামনে কেজরীবাল বলেন, বজরংবলীর কৃপাই আমাকে হঠাৎ আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছে। ভোটের মাঝে ছাড়া পাব, এমন কোনও আশাই ছিল না। কিন্তু বজরংবলী কৃপা করেছেন।
এত গরমে এত মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করছেন, আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। সোজা জেল থেকে আপনাদের মাঝে এসেছি। ৫০ দিন পর আপনাদের কাছে এসে আমার খুব ভাল লাগছে: কেজরীবাল।
শুক্রবার বিকেলে হাজারের বেশি সমর্থক উপস্থিত হয়েছিলেন তিহাড় জেলের সামনে। তাঁরা স্বাগত জানান কেজরীবালকে।