
গুয়াহাটি: আবারও একবার জলযন্ত্রণায় ভুগছে অসম। ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯৫ পার করেছে। বৃষ্টি কমলেও দুর্যোগ থেকে যে সাধারণ মানুষ মুক্তি পেয়েছেন, তা নয়। বরং এখনও কষ্ট-যন্ত্রণা রয়ে গিয়েছে। অসমের শিবসাগর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদের অন্যতম প্রধান উপনদী ডিক্রৌ (Dikhow) এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে।
বিগত ২০ দিন ধরে চলা অসমের ভয়াবহ বন্যার অন্যতম মূল কারণ এই পাহাড়ি নদীটি। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢালের কারণে ডিক্রৌ নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর জেরে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে একের পর এক গ্রাম, যার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
এই নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ‘নেপালি খুটি’ নামক পাহাড়ি গ্রামটিতে। ডিক্রৌ নদীর তীব্র জলোচ্ছ্বাসে এই গ্রামটি এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যার তোড়ে ভেসে গিয়ে এবং মাটির তলায় চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বহু নিরীহ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (ASDMA) সূত্রে খবর, নদীর তীব্র স্রোত এবং আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ারও সময়টুকুও পাননি। বন্যার জেরে বহু ঘরবাড়ি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে এখনও ৮২ জন বাসিন্দার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।
অসমের বন্যায় শিবসাগর এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে এই নদীর তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে। অসমের এই পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।