
নয়াদিল্লি: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে আমূল বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী এক মাসের মধ্যে সংস্থাটির প্রশাসনিক কাঠামো, পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক বড় পরিবর্তন আনা হবে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর। লক্ষ্য, ভবিষ্যতে কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নফাঁস কিংবা পরীক্ষায় অনিয়মের সুযোগ না থাকে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এদিকে, সংবাদ সংস্থা ANI সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, NTA-র ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে জড়িয়ে পড়া এনটিএ-কে আমূল ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার এই সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এনটিএ-র আউটসোর্সিং ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা। প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে বর্তমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি গঠন করে। দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে এই সংস্থার উপর। বর্তমানে জেইই (JEE), নিট (NEET), সিইউইটি (CUET)-সহ অন্তত ২০টি জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনা করে এনটিএ।
সূত্রের খবর, সংস্থাটিকে আরও দক্ষ, আধুনিক করে তুলতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক সংস্কারের সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই এনটিএ-র নতুন কাঠামো তৈরি করা হবে।
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে দিল্লিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে বহু ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল সমর্থন জানিয়েছে। এই আবহে কেন্দ্র পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটছে।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024-এ সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস কিংবা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। বর্তমানে এই অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
নতুন সংশোধনীতে শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অনিয়মে সহায়তাকারী সংঘবদ্ধ চক্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধেও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্দোষ পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনওভাবেই আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সেই বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের তরফে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। তাছাড়া নিট প্রশ্নফাঁসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে।