
নয়াদিল্লি: তাঁর বলা একটা কথা নিয়ে গত কয়েকমাসে শোরগোল পড়েছে। এবার আদালতের শুনানির ভিডিয়ো ক্লিপ যথাযথ প্রেক্ষাপট ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর বক্তব্য, তাঁর মৌখিক মন্তব্যকে ‘ভুলভাবে উদ্ধৃত’ করা হয়েছে এবং ‘বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে’ অপব্যবহার করে দেশের যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে।
গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় CJI সূর্য কান্ত কিছু ব্যক্তির সঙ্গে জাল ডিগ্রিধারীদের তুলনা করতে গিয়ে তাঁদের ‘ককরোচ’-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ধরনের ব্যক্তিরা পরে সিস্টেমকে আক্রমণ করতে সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা RTI কর্মী হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে যুবসমাজের মধ্যে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সূত্রপাত হয়।
এবার DD News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমানে আদালতের শুনানির ভিডিয়ো ক্লিপ যথাযথ প্রেক্ষাপট ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। CJI সূর্য কান্ত বলেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ওই মন্তব্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি এমন কিছু বলতে পারেন, তা তিনি কখনও ভাবতেও পারেননি।
তিনি বলেন, “আমার মন্তব্যকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং অপব্যবহার করা হয়েছে। যা বলা হয়নি, সেটাকেই বলা হয়েছে বলে তুলে ধরা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিশেষ করে দেশের যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য এটি একটি বড় ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ প্রচেষ্টা।” আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে রিপোর্ট করার আবেদন জানান প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে বলেও তিনি জানান।
দেশের প্রধান বিচারপতির কথায়, “আপনি সোশ্যাল মিডিয়া, সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনও মাধ্যমে যুক্ত থাকুন, কিংবা শুধুমাত্র একজন নাগরিক হন—আমাদের সকলেরই অধিকার, সাংবিধানিক কর্তব্য এবং দায়িত্ব রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন অধিকারের কথা বলি, তখন সেই অধিকার পালনের দায়িত্বও আমাদের বহন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। তাই আমি তাঁদের নিজেদের দায়িত্বের কথা মাথায় রাখার আবেদন জানাব। সমাজে সম্প্রীতি যাতে বজায় থাকে তা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রত্যেককে নিরলসভাবে চেষ্টা করতে হবে।”
এদিকে, NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে CJP-র নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলেছিল। গত ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এই বিক্ষোভের জেরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
প্রধান বিচারপতি তাঁর সাম্প্রতিক একটি নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেন। ওই নির্দেশে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার অডিয়ো ও ভিডিয়ো রেকর্ডিংয়ের অননুমোদিত প্রচার, পুনরায় পোস্ট করা, আপলোড এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তা থেকে আর্থিক লাভ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে সেই প্রক্রিয়াকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, “বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে আরও একটি পদক্ষেপ হিসেবে আমরা সুপ্রিম কোর্টের শুনানি সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেছি।”
তবে তাঁর বক্তব্য, “লাইভ স্ট্রিমিংয়ের অপব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এর অপব্যবহার করা যাবে না। মানুষ ছোট ছোট ক্লিপকে নিজেদের ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।”