
নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটা মন্তব্য। তারপর তৈরি একটা প্ল্যাটফর্ম। কয়েকমাসেই যুবসমাজে প্রভাব সৃষ্টি। নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে যন্তরমন্তরে তাদের আন্দোলনে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হয়। কিন্তু, সেই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-তে কয়েকমাসেই বড়সড় ফাটল। সিজেপি ছাড়লেন মণীশ ব্রহ্মভট্ট। ককরোচ জনতা পার্টি ডেমোক্র্যাটিক (CJP-D) নামে নতুন ‘দল’ তৈরির ঘোষণাও করেছেন। শুধু তাই নয়, মণীশ ব্রহ্মভট্ট সরব হয়েছেন অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, আম আদমি পার্টিকে সুবিধে পাইয়ে দিচ্ছেন অভিজিৎ। সিজেপি-তে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন।
সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমাজকর্মী মণীশ ব্রহ্মভট্ট অভিযোগ, যন্তর-মন্তরে আন্দোলনে সাফল্য পাওয়ার পর ‘বিক্রি’ হয়ে গিয়েছে সিজেপি। তাঁর কথায়, “এটা এখন হয়ে উঠেছে ‘টিম কেজরীবাল'”।
এখন দেশজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি নিয়েছে সিজেপি। মণীশ ব্রহ্মভট্টের অভিযোগ, কমিটি ঠিক করার আগে কোনও ভলান্টিয়ারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। এছাড়া সিজেপির বৃহত্তর টিমে যাঁদের নেওয়া হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টির যোগ রয়েছে।
সিজেপি ছেড়ে ব্রহ্মভট্ট সিজেপি-ডি’র ঘোষণার পর তাঁকে নিয়ে শোরগোল পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জানা গিয়েছে, সিজেপি-র আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার আগে ভোট ময়দানে দেখা গিয়েছে বছর সাঁইত্রিশের ব্রহ্মভট্টকে। ২০২২ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে পালানপুর থেকে নির্দল প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে ভোট প্রাপ্তির নিরিখে পঞ্চম স্থানে ছিলেন।
তবে ব্রহ্মভট্টকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। কিছুটা ব্যঙ্গের সুরেই তিনি বলেন, “মহেশ ভাট চলচ্চিত্র পরিচালক বলেই জানি।” মণীশকে তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন। অভিজিৎ গুরুত্ব না দিলেও সিজেপি-র অন্দরে ফাটল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। আম আদমি পার্টি-ই কি সিজেপি চালাচ্ছে? প্রশ্ন উঠছে। এরপর আর কোন কোন তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।