
রাঁচি: ধানবাদে কয়লা পাচার মামলায় (Coal Scam Case) বড় সাফল্য ইডি-র (ED)। বেআইনি কয়লা পাচার এবং কালো টাকা কারবারের অভিযোগে ধানবাদের ৩১টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির এই অভিযানেই প্রায় ৫০০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকার নগদ। কয়লা পাচার মামলায় এটাই এ যাবৎকালে সবচেয়ে বড় তল্লাশি ইডির।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের দায়ের করা একাধিক এফআইআর এবং চার্জশিটের ভিত্তিতে কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে ইডি। অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন (PMLA), ২০০২-এর আওতায় অনিল গোয়েল, এলবি সিং, হরেন্দ্র চৌহান এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পরিচালক গণেশ যাদব, পাপ্পু মণ্ডল, রোহিত যাদব ও মাধো সিং সহ একাধিক ব্যক্তির আবাসন ও সংস্থায় এই অভিযান চালানো হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, বেআইনিভাবে কয়লা তুলে এবং তা পাচার করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সংগ্রহ করেছেন অভিযুক্তরা। অভিযোগ, সেই টাকা বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে সাদা করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা দিয়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়। তল্লাশিতে ইডি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। অভিযানের সময় এক অভিযুক্তের প্রায় ১৬০ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ ১.০২ কোটি টাকা উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা। তল্লাশিতে ২০০টিরও বেশি সন্দেহভাজন স্থাবর সম্পত্তির দলিল, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং হিসাবের খাতা সহ প্রচুর বেআইনি নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর।
ধানবাদের কয়লা পাচার মামলায় ইডির উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির উৎস কী, তা খতিয়ে দেখছে ইডি।
এর আগে, নভেম্বর ২০২৫-এও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অনিল গোয়েল ও এলবি সিংয়ের ডেরায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এই কয়লা কেলেঙ্কারির শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।