
নয়াদিল্লি: খলিস্তানপন্থী জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে ইতিমধ্যে চিড় ধরেছে। এবার ভারতের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ কানাডার। কানাডার বিদেশি হস্তক্ষেপ কমিশন একটি রিপোর্টে দাবি করেছে, কানাডার নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের নিরিখে চিনের পরই সবচেয়ে সক্রিয় দেশ ভারত। পত্রপাঠ সেই অভিযোগ খারিজ করে দিল নয়াদিল্লি। বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কানাডা হস্তক্ষেপ করছে বলে বিবৃতিতে জানাল বিদেশমন্ত্রক।
সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “আমরা একটা রিপোর্ট দেখেছি যেখানে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কানাডাই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে লাগাতার হস্তক্ষেপ করছে। অবৈধ অভিবাসন এবং সংগঠিত অপরাধের পরিবেশ তৈরি করছে। ওই রিপোর্টে ভারতের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ খারিজ করছি। আশা করছি, অবৈধ অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়া বন্ধ হবে।”
গত বছরের মে মাসে প্রাথমিক রিপোর্টে চিনকে নিশানা করে কানাডা জানিয়েছিল, ‘কানাডার বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে চিন।’ কিন্তু, চূড়ান্ত রিপোর্টে তারা জানিয়েছে, কানাডার নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে দ্বিতীয় সক্রিয় দেশ ভারত। কানাডার বিদেশি হস্তক্ষেপ কমিশনের নেতৃত্বে দিয়েছেন কমিশনার মারি জোস হগ তদন্তে লেখেন, “চিনের মতো ভারত কূটনৈতিক অফিসার এবং প্রক্সি এজেন্টদের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করেছে।” ওই রিপোর্টে রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরানকেও কানাডায় বিদেশি হস্তক্ষেপের তালিকায় রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালের জুনে কানাডায় খুন হন খলিস্তানপন্থী জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সেদেশের সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, ভারতের এজেন্ট এই খুনের সঙ্গে জড়িত। তৎক্ষণাৎ ভারত তার প্রতিবাদ করে। ট্রুডোর এই দাবি অবাস্তব এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়ে দেয় নয়াদিল্লি। ট্রুডোর মন্তব্যের প্রভাব পড়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে। এবার কানাডার নতুন অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।