
নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচনে মার্কিন অনুদান নিয়ে আপাতত হইচই পড়ে গিয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। শাসক শিবির বলছে, এই অনুদান বিরোধীদের পকেটে গিয়েছে। অন্য দিকে, তাদের অভিযোগ ভোটে জিততেই আমেরিকার থেকে সাহায্য নিয়েছে বিজেপি। আর সেই বিতর্কের আবহে ইউএসএড বা মার্কিন অনুদান নিয়ে বড় তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের।
সম্প্রতি, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর আমেরিকার থেকে সাতটি প্রকল্পের দরুন মোট ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অনুদান পেয়েছে ভারত।
কোন কোন খাতের উন্নয়নে মিলেছে এই অনুদান?
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের বন ও জলবায়ু, কৃষিকাজ, বিদ্যুৎক্ষেত্র-সহ বেশ কিছু উন্নয়নমূলক খাতে খরচের জন্যই এই অনুদান পাঠিয়েছিল তৎকালীন বাইডেনের সরকার। তবে এই খরচের তালিকায় কিন্তু নেই ভারতীয়দের নির্বাচনে বুথমুখী করার জন্য পাঠানো অনুদানের কথা। মূলত, দেশের বিপর্যয়, জলবায়ু পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ প্রকল্প, স্বাস্থ্য খাতে খরচের জন্যই এই অনুদান পাঠানো হয়েছিল মার্কিন প্রশাসন তরফে।
বিতর্কের সূচনা
চলতি মাসের মাঝে প্রধানমন্ত্রী মোদী আমেরিকা সফরে সেরে দেশে ফেরার পরই একটি তালিকা প্রকাশ করা হয় ইলন মাস্কের দফতর ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্মেন্ট এফিসিয়েন্সি’ তরফে। আর তারপরই তুঙ্গে ওঠে বিতর্ক। মূলত, সেই তালিকা মাধ্যমে বিশ্বের একাধিক দেশের অনুদান বাতিল করে সেদেশের বর্তমান সরকার।
সেই অনুদান বাতিলের তালিকায় নাম ছিল ভারতেরও। বলা হয়, ভারতীয়দের বুথমুখী করতে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান পাঠিয়ে থাকে আমেরিকা। তারপরই অভিযোগ ওঠে কীভাবে একটি দেশ, অন্য দেশের নির্বাচনে টাকা ঢালতে পারে? এই প্রসঙ্গে শনিবার মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। তাঁর কথায়, ‘ট্রাম্পের প্রশাসনের আনা তথ্য যদি সত্যি হয়, তবে তা উদ্বেগের। তবে গোটা ঘটনাই এখনও তদন্তসাপেক্ষ। আমার মতে, সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।’