
নয়া দিল্লি: ২০১২-র পর ২০২৬-এও BRICS সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতে। তবে এই ১৪ বছরে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা ও ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান অনেকটাই বদলেছে।
২০১২ সালে ব্রিকস-এর সদস্য হিসেবে ভারতকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, BRICS-এ কি সত্যিই ভারতের স্থান হওয়া উচিৎ? কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন BRICS-এর I-তে কি ইন্ডিয়ার বদলে ইন্দোনেশিয়া হওয়া উচিৎ? ভারত বাকিদের তুলনায় কতটা দুর্বল, সেই প্রশ্নও ছিল। মূলত অর্থনৈতিক অবস্থা, বৃদ্ধির স্লথ গতি, মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়ের কারণেই প্রশ্নগুলো উঠেছিল।
২০১২-তেই Standard & Poor-এর তরফে সতর্ক করা হয়েছিল যে ভারত প্রথম BRICS সদস্য হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড হারাতে পারে। এর মধ্যে ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে হু হু করে নীচের দিকে নামছিল অর্থনীতির গ্রাফ। ফলে দুর্বলতাই হয়ে উঠেছিল চর্চার কারণ।
তবে ২০২৬-এ ভারতের অবস্থান অনেকাংশে আলাদা। বদলেছে অর্থনীতি। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি হয়েছে। ঝুঁকির কোনও সম্ভাবনাও নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি সেপ্টেম্বর জাপানের সংস্থার রেটিং-এ ভারতের Sovereign Rating BBB+ থেকে কয়েকধাপ এগিয়ে A- হয়েছে। ভারতের অর্থনীতিতে এসেছে স্থিতিশীলতা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মতো বিশ্বনেতারা দিল্লিতে হাজির হচ্ছেন একে একে। একমঞ্চে সমবেত হবেন তাঁরা।
আর এবার ব্রিকস সম্মেলনে আগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়ে থাকছে ভারত। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, গ্রহণযোগ্যতা, উৎপাদন ক্ষমতার বৃদ্ধি, ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মতো বিষয় এবার ভারতকে অন্য জায়গা করে দিয়েছে।