Isha Gramotsavam: এবার আরও বিস্তার বাড়ল ‘ইশা গ্রামোৎসবম’-এর, অংশ নিচ্ছে ৮০,০০০ খেলোয়াড়

পুরুষরা এখানে ভলিবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, মহিলারা যোগ দেবেন থ্রো বলে। ভলিবল এবং থ্রো বলের বিজয়ী দলগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। আর রানার্স-আপ হলে পুরস্কারমূল্য হবে ৩ লক্ষ টাকা করে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান পেলে যথাক্রমে ১ লক্ষ এবং ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

Isha Gramotsavam: এবার আরও বিস্তার বাড়ল ইশা গ্রামোৎসবম-এর, অংশ নিচ্ছে ৮০,০০০ খেলোয়াড়
Image Credit source: TV9 Bangla

Jul 15, 2026 | 9:50 PM

নয়া দিল্লি: দেশের বৃহত্তম বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবের পরিধি এবার আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সদগুরুর ‘ইশা আউটরিচ’ (Isha Outreach) এই আয়োজিত ‘ইশা গ্রামোৎসবম’-এ এবার অংশ নিচ্ছে উত্তর ভারতের একাধিক গ্রাম। মোট ১০টি রাজ্য এবং ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

দক্ষিণ ভারতে আগেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই প্রতিযোগিতা। এবার প্রথম অংশ নিচ্ছে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র। ৪০ হাজারের বেশি গ্রাম থেকে প্রায় ৮০ হাজার খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার মহিলা থাকছে।

পুরুষরা এখানে ভলিবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, মহিলারা যোগ দেবেন থ্রো বলে। ভলিবল এবং থ্রো বলের বিজয়ী দলগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। আর রানার্স-আপ হলে পুরস্কারমূল্য হবে ৩ লক্ষ টাকা করে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান পেলে যথাক্রমে ১ লক্ষ এবং ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

এছাড়া প্যারালিম্পিক বিভাগের জন্য পুরস্কার রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট পুরস্কারের অঙ্ক হবে ১ কোটি টাকা। যে খেলোয়াড়রা কেরিয়ার শুরু করছেন, তাঁদের অনুপ্রাণিত করার জন্য এটা হবে একটা বড় প্লাটফর্ম।

ইশা গ্রামোৎসবমের সমন্বয়ক স্বামী পুলক বলেন: “ইশা গ্রামোৎসবম কেবল পরিসরেই নয়, এর প্রভাবও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারা ভারতের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৮০ হাজারের বেশি খেলোয়াড়কে একত্রিত করে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে, এটি একটি বিরল প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি যোগ্য দলকে এতে অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

প্রতিযোগিতাটি ভাঙা হয়েছে ক্লাস্টার-লেভেল, ডিভিশনাল রাউন্ড এবং গ্র্যান্ড ফিনালেতে। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ক্লাস্টার ম্যাচগুলো শুরু হবে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর কোয়েম্বাটুরের ইশা যোগ সেন্টারে আইকনিক ‘আদিয়যোগী’-র সামনে সদগুরুর উপস্থিতিতে হবে গ্র্যান্ড ফিনালে।

উত্তর প্রদেশে ক্লাস্টার-স্তরের ম্যাচগুলো পাঁচটি স্থান জায়গায় হবে। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ হবে ২৫-২৬ জুলাই। লখনউ, বারাণসী, মুজাফফরনগর এবং মিরাটে অনুষ্ঠিত হবে। ১-২ আগস্ট গৌতম বুদ্ধ নগরে, ৯ আগস্ট লখনউতে রাজ্য স্তরের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

হরিয়ানায় ক্লাস্টার-স্তরের ম্যাচগুলো ২৫ এবং ২৬ জুলাই হবে পানিপথ, কার্নাল এবং অম্বালায়। ১ এবং ২ আগস্ট হিসার ও কুরুক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ। রাজ্য স্তরের ম্যাচগুলো ৯ আগস্ট কার্নালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ইশা গ্রামোৎসবম’ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ‘জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন সংস্থা’ (National Sports Promotion Organisation) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

থ্রোবল প্লেয়ার রাজেশ্বরী বলেন, “আমাদের মতো গৃহিণীরা, যারা সারাদিন বাড়িতেই থাকি, তারা এখানে আসবই। এমনকী আমরা যদি কোথাও বেড়াতেও যাই, তাহলেও প্র্যাকটিস করার জন্য বিকেল ৫টার মধ্যে ফিরে আসি। আমাদের স্বামীরা আমাদের পূর্ণ সমর্থন করে। তবে কাজটা আমাদের জন্য সহজ ছিল না। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর জন্য আমাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমরা আমাদের সমস্ত ভয়কে জয় করেছি। এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল ভালো খেলা।”

ব্যক্তি ও সমাজ গঠনে খেলাধূলার ভূমিকা প্রসঙ্গে সদগুরু বলেন, “বেঁচে থাকার সবথেকে বড় উপায় হল, জীবনটাকে খেলার মতো করে চলা। মুখ ভার করে এই গ্রহে হেঁটে বেড়ানোটা কিন্তু চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। আপনি যখন জীবনটাকে খেলার মতো গ্রহণ করেন, তাহলে সবকিছুর প্রতি গভীর মনোযোগ দিতে পারবেন। অন্যথায় তা পারবেন না। কারণ তখন জীবনের গুরুভারই আপনাকে মেরে ফেলবে।”

Follow Us